নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রবিন টেক্স গার্মেন্টসের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী।
বিনা নোটিশে ১২০ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (৯ এপ্রিল) শ্রমিকদের বিক্ষোভে বাধা দেওয়ায় উত্তেজিত শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া পালটা-ধাওয়া ও সংঘর্ষে সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ ও শ্রমিকসহ আহত হন ৫০ জন।
এ ঘটনায় বুধবার রাতেই রবিনটেক্স গার্মেন্টসের ম্যানেজার (এইচআর) ইউসূফ বাদী হয়ে ৬৬ জন নামীয়সহ অজ্ঞাত ৪৬৬ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় ২ নারী শ্রমিকসহ ১২ শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী।
গত ৯ এপ্রিল দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার রবিনটেক্স (বাংলাদেশ) গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন এই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় দু’টি মামলা করে। দুই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি লিয়াকত।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমাণ্ড আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আদালত বৃহস্পতিবার রিমাণ্ড শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন।
যদিও দুই মামলার একটিতেও এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না সেলিম মাহমুদ। শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনার তদন্তে সেলিম মাহমুদের ‘সম্পৃক্ততা’ পেয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।
এদিকে, সেলিম মাহমুদের ছেলে ওয়াজিদ মাহমুদের অভিযোগ, রাতের বেলা দরজা ভেঙে ঘুম থেকে তুলে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
“দরজা ভেঙে বাবাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তাকে চর-থাপ্পর এবং লাঠি দিয়া বাড়িও দিয়েছে যৌথ বাহিনী”, বলেন ওয়াজিদ।
তবে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, “মারধরের অভিযোগ মিথ্যা। তাকে সসম্মানে আইন মোতাবেক গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এদিকে, বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সেলিম মাহমুদসহ রবিনটেক্স গার্মেন্টসের গ্রেপ্তার সকল শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানান বাসদের নেতা-কর্মীরা।









Discussion about this post