বন্দরে চোর আখ্যা দিয়ে রাহিম (২২) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিতরা।
আজ বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রাহিম।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২ টায় বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বারপাড়া এলাকায় গণপিটুনীর ঘটনা ঘটে। নিহত রাহিম ইউনিয়নের দক্ষিন বারপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র।
নিহত পরিবার জানায়, প্রতিবেশী ইকবাল মিয়ার নেতৃত্বে এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে চোর আখ্যা দিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নিহত রাহিমের মা রাশিদা বেগম জানান, রাতে রাহিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী রহিমউদ্দিন প্রধানের ছেলে ইকবাল। রাত দেড়টার দিকে ছেলের ডাকচিৎকার শুনে ঘুম থেকে ওঠে দৌড়ে ইকবালের বাড়িতে গিয়ে দেখি ছেলের শরীরের কাটা স্থানে মরিচের গুঁড়া ও লবণ দিতেছে। আমার চোখের সামনে ইকবাল, রমজান, আমজাদ, মাসুদ, বাঁধন, সালাউদ্দিন ও শিল্পীসহ ১০-১২ জন মিলে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা থেঁতলে ফেলে।
বন্দরের বারপাড়ার অনেকেই জানান, রাতে এলাকার প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে চুরি করতে এসেছিলো বলে অভিযোগ করে রাহিমকে গণপিটুনি দেয়া হয় এলাকার লোকজন। এমন খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এলাকাবাসী আরো জানান, রাহিম ইট বালু বহনকারী পিকআপভ্যান চালক। ইকবালের বড় ভাই বাহরাইন প্রবাসী বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী হাবিবা আক্তারের সঙ্গে রাহিমের পরকীয়া রয়েছে। এ সন্দেহে তাকে চোর আখ্যা দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ইকবাল ও তার পরিবারের লোকজন। প্রবাসীর স্ত্রী হাবিবাও স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে এলাকার অনেকেই বলেন, উত্তেজিত সকলেই নানানভাবে মারপিট করেছে । তখন দেখা গেছে সকলেই যেন বিচারক। একেকজন যেন বিচারক হয়ে মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ফেলে। আর তখন পুলিশে এসে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পাঠায়। এখন শুনতেছি, অনেকেই নাকি টাকা দিয়ে রাহিমের পরিবারকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, রাত ২টার দিকে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই চিকিৎসার জন্য। সকাল ১০ টায় সে মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। নিহতের লাশ ঢামেক মর্গে আছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।









Discussion about this post