দূর্নীতি করে উপার্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে কত কিছুই না করতে মন চায়। যেমন স্ত্রীর জন্য গয়না, গাড়ি, বাড়ি, শ্বশুর বাড়ির স্বজনদের জন্য নানা উপকৌঠন প্রদান করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে অসাধু কর্তারা।
নানা অপরাধ ছাড়াও বিকৃত চরিত্রের আস্ফালন দেখাতে গিয়ে অনেকেই নানা বিতর্কের জন্ম দেন।
তেমনি এক বিতর্কিত কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
খাদ্য অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকার দূর্ণীতি করার কারনে এই কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে হানি ট্র্যাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সারাদেশের মত্য নারায়ণগঞ্জের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে।
চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, প্রতিটি জেলায় এমন কোন কর্মকর্তা নাই যিনি সৎ পথে থেকে জীবন যাপন করেন। আমি এখন আমলাপাড়া বড় মসজিদ থেকে জুম্মার নামাজ পরে বের হলাম। আমি ইচ্ছে করলেই সৎ থাকতে পারবো না। কারণ সকল অপরাধীদের মাঝস্থানে আমি সৎ থাকতে চাইলে চাকরী ই করতে পারবো না সকল অসৎ কর্মচারী কর্মকর্তা ও তাদের চক্র মিলিত হয়ে আমাকে মেরে ফেলবে। আর এই দপ্তরে সৎ থাকা খুব কঠিন। আর অসৎ পথে উপর্জিত অর্থ ই সকল অনর্থের মূল। আর ওই অসৎ টাকায় ওই একজন জাহাঙ্গীর আলম ধরা পরছে বলে কথা উঠেছে । যারা ধরা পরে নাই তাদের কথাও উঠে নাই। খোজ নিলেই বেড়িয়ে আসবে নারায়ণগঞ্জ জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের অসাধু কর্তাদের অপকর্মের ফিরিস্তি। এমন অনেক হানি ট্র্যাপ নারায়ণগঞ্জে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।
যে ঘটনা ঘিরে আবারও আলোচনায় ‘হানি ট্র্যাপ’। এবার হানি ট্র্যাপের শিকার হলেন নোয়াখালী জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
দফায় দফায় সুন্দরী মডেল কন্যার দাওয়াত রক্ষা করতে গিয়ে জিম্মি হয়ে বেদম নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পর ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান তিনি।
এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আদালত পাড়ার অনেকের একই প্রশ্ন এই দ্রুত সময়ের মধ্যে এতো টাকা কোথায় পেলেন নোয়াখালী জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার ? সততার সাথে চাকরি করে এতো টাকা কি দুই এক দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা সম্ভব ? নোয়াখালী তে এতো সংগীত চর্চার অংসখ্য সংস্কৃতিক সংগঠন থাকার পরও সেই কয়েকশো কিলোমিটার দূরে গিয়ে সংগীতের প্রতি দূর্বলতা দেখানোর নেপথ্যে কি আছে তার প্রকৃত ঘটনা যাচাই করলেই বেড়িয়ে আসবে চাঞ্চল্যকর আরো তথ্য।
জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম অনেক আগে থেকেই সংগীতের প্রতি দুর্বলতা সরকারি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের। মাঝেমধ্যেই গান গাওয়ার পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেন তিনি।
আর সেই গানের সুবাদেই পরিচয় ঢাকার মডেল তনয়া হোসেনের সঙ্গে, যার প্রকৃত নাম নাজমুন নাহার সুখী (২৮)। এরপর তার সঙ্গে অনেকটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে জাহাঙ্গীর আলমের। তারা একসঙ্গে একটি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ও করেন।
তাদের এই সম্পর্কের একপর্যায়ে মঞ্চে আসেন তনয়ার বড় বোন তানিশা, যার আসল নাম কামরুন নাহার আঁখি (৩২)। তার স্বামী দুবাইয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন, চিকিৎসার জন্য দরকার পাঁচ লাখ টাকা- এই কথা বলে জাহাঙ্গীরের কাছে পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা চান তানিশা। সহানুভূতিশীল হয়ে সেই টাকা দেন জাহাঙ্গীর।
এভাবেই তনয়া-তানিশার ভয়াবহ ফাঁদের শুরু। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একদিন তনয়া তাদের ঢাকার বাসায় জাহাঙ্গীর আলমকে দাওয়াত করেন। গত ১৯ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ে ঢাকার ছোলমাঈদ উত্তরপাড়ায় তনয়াদের বাসায় যান জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু তার জন্য যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে কল্পনাও করেননি তিনি।
ওই বাসায় আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল তনয়া-তানিশাসহ চক্রের আরও দুই সদস্য। জাহাঙ্গীর আলম বাসায় ঢোকার পরই তাকে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর শুরু হয় মারধর, শ্বাসরোধে মারার চেষ্টা। প্রাণ বাঁচাতে জাহাঙ্গীরের কাছে দাবি করা হয় এক কোটি টাকা।
জিম্মি হয়ে পড়া জাহাঙ্গীর পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা পাঠাতে বলেন। এরপর এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকা এবং বিকাশে পাঠানো হয় আরও ৮ লাখ টাকা।
৬০ লাখ টাকা পাওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলমকে বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তনয়া-তানিশা চক্র। তাকে হুমকি দেওয়া হয়— কাউকে এ ঘটনা জানালে এসব ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে।
রাতে চক্রটি জাহাঙ্গীরকে নিয়ে গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়ে। বিভিন্ন পথ ঘুরে তাকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় ফেলে যায় বাড্ডার এক অন্ধকার গলিতে। বিপর্যস্ত জাহাঙ্গীর আলম একজন রিকশাচালকের সহায়তায় আশ্রয় নেন একটি হোটেলে। পরে চলে যান চট্টগ্রাম। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলে ফিরে আসেন ঢাকায় এবং মামলা করেন ভাটারা থানায়।
এ ঘটনায় গত ২৬ এপ্রিল তনয়াদের ওই বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে তনয়া, তানিশা, সাফাত ইসলাম ও রুমানা ইসলামকে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বাকি টাকার একটা অংশ জমা রাখেন ব্যাংকে, কিছু টাকা দিয়ে কেনেন আইফোন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাই তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
হানি ট্র্যাপ সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল আলোচিত একটি বিষয়। মডেল মেঘনা আলম ও সৌদি রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এমনই এক ঘটনায় সংবাদ শিরোনাম হয় ‘হানি ট্র্যাপ’। মডেল মেঘনা আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন বিত্তশালীদের হানি ট্র্যাপে ফেলার। বাংলাদেশে মেয়াদ শেষে সৌদি রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের সময় সামনে আসে মেঘনা সম্পর্ক। মেঘনা আলমের দাবি, ওই দূতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। আর দূতের অভিযোগ, তার কাছে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করে মেঘনা আলমের চক্র। দূতের অভিযোগ সূত্রে গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে আটক করা হয় মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেঘনা আলমকে ।
পরে তাকে হানি ট্র্যাপ প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মেঘনা আলম, সহযোগী দেওয়ান সমিরসহ অচেনা দুই-তিনজন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা রূপবতীদের দিয়ে ভিনদেশি কূটনীতিক বা প্রতিনিধি এবং দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে আসছে।
এ ধরনের ফাঁদে পড়ার হাত থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ হলে পুলিশকে জানানোর কথা বলেন ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।









Discussion about this post