নারায়ণগঞ্জ জেলায় ব্যাপকভাবে আলোচনা সমালোচনা বিতর্কের পর কারো কাছে ওসমান পরিবার ছাড়াও ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম দালাল, কারো কাছে ঝুট বাবা কারো কারে বিকেএমইএ এর নির্বাচনের দীর্ঘদিনের মাস্টারমাইন্ডার বিতর্কিত সভাপতি সেই হাতেম আবারো নির্বাচিত হয়েছেন পুরো প্যানেল নিয়ে।
দীর্ঘ এক যুগ পর দেশের নিট গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ২০২৫–২৭ সালের কমিটি গঠন করতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ১০ মে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বাধীন প্রোগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্স প্যানেলের সকলেই। এই প্যানেলের ৩৫ জন সদস্যই নির্বাচিত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশদের বিরুদ্ধে ওসমান পরিবারের দালালীর সুস্পষ্ট অভিযোগ চাউর রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে।
২০১২ সালে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে এমন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। ওই নির্বাচন নিয়েও ছিলো নানা সমালোচনা।
১০ মে আজকের বিকেএমইএর এবারের নির্বাচনে ৫৭২ ভোটার ছিলেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলামোটর ও নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ কার্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হয়।
নির্বাচন চলাকালীন সময়ে অনেকেই বলেছেন, এই ভোট হচ্ছে আইওয়াশ (লোকদেখানো)। মহাধুরন্ধর হাতেম বিদেশে লোক পাঠিয়ে ওসমান পরিবারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে নির্বাচন করেছেন। যার খবর গোয়েন্দাদের কাছে থাকলেও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এবং নির্বাচন চলাকালীন সময়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গোয়েন্দাদের একটি টিম নানাভাবে নির্বাচনের সকল বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।
এ সময় গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য সুকৌশলে বলেন, ‘এই নির্বাচনের নেপথ্যে ওসমান পরিবারের দেশী বিদেশিদের প্রভাব ও কারিকুলাম নিয়েও কাজ করছে একাধিক সংস্থা। আবারো বিকেএমইএ এর কর্তৃত্ব বজায় রাখবে ওসমান পরিবারের হাতেই।
আজকের নির্বাচনে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের ভোট কেন্দ্রে মোট ৪৩১ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। সে হিসেবে ভোটারের উপস্থিতি ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪০৮টি ভোট বৈধ হয়েছে। বাকি ভোট নানা করণে বাদ হয়েছে। বৈধ ভোটের মধ্যে ঢাকায় কেন্দ্রে ২১৯ টি, নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রে ১৮৯টি ভোট রয়েছে।
বিকেএমইএ এর আজ ১০ মে এর নির্বাচনে ৩৫টি পরিচালক পদে ৩৮ প্রার্থী লড়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে ৩৫ জনই প্রোগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্স প্যানেলের। এই প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
হাতেম ভোটারদের এই উপস্থিতিকে সন্তোষজনক মনে করে ভোটাররা তাদের উপর আস্থা রাখায় তাদের ধন্যবাদ জানান।
নির্বাচনের পর মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে প্রাণে চাইছিলাম নির্বাচন হোক। আমরা সব সময় নির্বাচনের পক্ষে। ঢাকায় আন্দোলনের কারণে উপস্থিতি কিছু কম ছিল। অনেকে আতঙ্কে বের হননি। তারপরও আমি বলব উপস্থিতি বেশ ভালো।’
হাতেম প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনজন প্রার্থী।
তাঁরা হচ্ছেন : ইয়াং ফোর এভার টেক্সটাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক রাজিব চৌধুরী, জাহিন নিটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া এবং জেএস স্টাইল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
ভোটে নির্বাচিত ৩৫ জনের মধ্য থেকে পরবর্তী সময়ে বিকেএমইএর সভাপতি, নির্বাহী সভাপতি, একজন সিনিয়র সহসভাপতি, ছয়জন সহ-সভাপতি ও ৯ জন পরিচালক নির্বাচিত করবেন।
এরপুর্বে ২০২১ সালে কমিটি গঠন হয়। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন সেলিম ওসমান। এই সেলিম ওদমানসহ ওসমানীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে টানা ১৪ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে পর্ষদ গঠন করে সভাপতির পদ আঁকড়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই সেই ওসমানের অন্যতম সহযোগী ছিলেন এই হাতাম। এখন তিনি ভোল পাল্টে নতুন নাটক মঞ্চায়ন করে এতের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
৫ আগস্ট সেলিম ওসমান পদ ছাড়লে সংগঠনটির নতুন সভাপতি হন মোহাম্মদ হাতেম, যিনি এর আগে নির্বাহী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আগামী কমিটির সভাপতিও মোহাম্মদ হাতেম হতে পারেন বলে নির্বাচিত একাধিক পরিচালকের সঙ্গে আলোচনায় এমন সিদ্ধান্ত বিদেশে বসেই চূড়ান্ত করেছে সেই পুরানো মাফিয়া চক্র ।









Discussion about this post