চরম বিতর্কের মধ্য দিয়ে এক যুগ পর গত ১০ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাচন। এবারের কথিত এবং ওসমানীয় প্রেসক্রিপশনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিতর্কের আষ্টে পিস্ট আটকে আছে সেই বিতর্কিত হাতেম ও ওসমানীয় চেলা চামুন্ডারা।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে একক প্যানেল দিলেও সেই ওসমানীয় অদৃশ্য কৌসুলী দাপটের কাছে হাতেম প্যানেলের বিপরীতে কেবল তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আইওয়াশ হিসেবে। এরপরেও ওসমানীয় নির্বাচনের মাস্টামাইন্ডার মোহাম্মদ হাতেম ভোটের হিসেবে দশম হয়েছেন।
২০১২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছিলেন এই ব্যবসায়ী নেতা বিতর্কিত হাতেম। আর সেই হিসেবে এবার শত কৌশলের পরও হিসেবে হাতেমের জনপ্রিয়তা কমে দশম স্থানে এসে নেমেছে । জনপ্রিয়তায় এই ধস নামার পেছনে তার বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও ওসমান পরিবারের দোসরের’ অভিযোগটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনেকেই।
ওসমানীয় সেই অদৃশ্য ভীতি ও নানা হুমকির কারণে একক প্যানেল হওয়ার পরও পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হওয়াতে আবারও এ ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হওয়ার পথে রয়েছেন বিতর্কিত হাতেম। এক্ষেত্রেও ওসমানীয় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এবারের নির্বাচনের ফলাফল বিতর্কিত হাতেমের জন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ‘হলুদ কার্ড’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিকেএমইএ’ এর সকল কর্মকান্ডে দীর্ঘ দেড় যুগ যাবৎ নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ওসমানীয় দালাল নির্লজ্জ বিতর্কিত মোহাম্মদ হাতেম।
বিকেএমইএ এর নির্বাচন সকণল সময়ই ছিলো বিতর্কিত। সেই ২০১২ সালের নির্বাচনেও তিনি দুই প্যানেলের নেতাদের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছিলেন হাতেম, সেখানে এবার একক প্যানেল থাকার পরও তিনি হয়েছেন দশম। এটি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বের জন্য আশঙ্কা তৈরি করেছে। ওসমানীয় ঘরানার প্রায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাকে নির্বাচিত করলেও তার বিগত সময়ের কর্মকাণ্ডের বিবেচনায় কিছুটা হুঁশিয়ার করেছেন ভোটের মধ্য দিয়ে। ব্যবসায়ীরা তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষনের পর বলছেন ভবিষ্যতে লাল কার্ডও পেতে পারেন নির্লজ্জ বিতর্কিত মোহাম্মদ হাতেম। এমনটা হলে সেই প্রেসক্রিপশনও এখনো ওসমানীয় দখলে ।
গত ১০ মে দিনভর ঢাকার বাংলামোটর ও নারায়ণগঞ্জের বিকেএমইএ ভবনের আলাদা দু’টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। এবারের নির্বাচনে ৫৭২ জন ভোটারের মধ্যে ৪৩১ জন ভোট দেন। এরমধ্যে ২৩টি ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়। বিকেএমইএ’র ৫৭২ ভোটারের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ২৭২, ঢাকায় ২২৪ ও চট্টগ্রামে ৭৬ জন ভোট প্রদান করেন।
ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি শহরের চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ে কথিক ফলাফল ঘোষণা করেন।
হাতেমের নেতৃত্বে ‘প্রোগ্রেসিভ নীট অ্যালায়েন্স’ এ সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এ প্যানেলের প্রধান মোহাম্মদ হাতেম ভোটের হিসেবে দশম হয়েছেন। যদিও এ প্যানেলের নেতা হিসেবে আবারও এ ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হতে যাচ্ছেন আছেন তিনি।
বিতর্কিত ওই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ৪০৮ ভোট পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন রিপন, এছাড়া, ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ ৪০৬, আশিকুর রহমান ৪০৫, এম. ইসফাক আহসান ৪০৫, আহমেদ নূর ফয়সাল ৪০৪, আহসান খান চৌধুরী ৪০৪, মো. আব্দুল হান্নান ৪০৪, মো. মহসিন রাব্বানি ৪০৪, মো. শাহরিয়ার সাইদ ৪০৪, মোহাম্মদ হাতেম ৪০৩, ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্য ৪০৩, মোহাম্মদ শামসুল আজম ৪০২, গাওহার সিরাজ জামিল ৪০১, আব্দুল বারেক ৪০১, মো. জামাল উদ্দিন মিয়া ৪০১, মো. মনিরুজ্জামান ৪০১, মো. সামসুজ্জামান ৪০১, মোহাম্মদ রাশেদ ৪০১, ফজলে শামীম এহসান ৪০০, মনসুর আহমেদ ৩৯৯, মো. মামুনুর রশিদ ৩৯৯, খন্দকার সাইফুল ইসলাম ৩৯৮, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ৩৯৮, মো. ইয়াসিন ৩৯৭, রাজীব চৌধুরী ৩৯৭, ফওজুল ইমরান খান ৩৯৬, মোহাম্মদ জাকারিয়া ওয়াহিদ ৩৯৬, মো. মোরশেদ সারোয়ার ৩৯৩, মোহাম্মদ সেলিম ৩৯১, মিনহাজুল হক ৩৮৬, অমল পোদ্দার ৩৮০, রাকিব সোবহান মিয়া ৩৭৪, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ৩৭০, নন্দ দুলাল সাহা ৩৫৪, রতন কুমার সাহা ৩৩৮ ভোট পেয়েছেন যাদের প্রায় সকলেই ওসমানীয় দালাল হিসেবে পরিচিত।
পরাজিত তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিএম হায়দার আলী ১৬৩, মো. শাহজাহান আলম ১৫৩ ও মনির হোসেন শেখ ১৪০ ভোট পেয়েছেন।
৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের পতসেলিম ওসমান আত্মগোপনে চলে যান। পরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেই পদত্যাগপত্র পাঠান এবং মোহাম্মদ হাতেমকে পরবর্তী সভাপতি করার দেন। সেই নির্দেশনানুযায়ী সভাপতির বিতর্কিত দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। দীর্ঘদিন সেলিম ওসমানের নেতৃত্বের কমিটিতে নির্বাহী সভাপতি ছিলেন ওসমানীয় দালাল হিসিবে সর্বজন স্বীকৃত নির্লজ্জ বিতর্কিত মোহাম্মদ হাতেম।
‘ওসমানীয় পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতার’ জোড়ালো অভিযোগের পরও এবারের নির্বাচনে ৩৫ জনের প্যানেল ঘোষণা করেন হাতেম। আর তাদের প্যানেলের বিপরীতে কেউ কোন পূর্ণ প্যানেল ঘোষনা করার সাহস করে নাই নানা কারণেই। স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েন তিনজন প্রার্থী।
বিকেএমইএ ছাড়াও চেম্বার অব কমার্স, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, ইয়ার্ন মার্চেন্ট, হোসিয়ারী সমিতিসহ সকল নির্বাচনে ওসমানীয় প্রভাব কি পরিমাণ রেযেছে তা ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী গ্রেফতারের পর হামলা ও মামলার ঘটনা খুব তীক্ষ্ণ দৃস্টিতে পর্যবেক্ষন করছে নগরবাসী। একই সাথে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমিদস্যূখ্যাত এসএম রানা কিভাবে দ্রুত সময়ে জামিন নিয়ে ফের বিসিবির টেন্ডারবাজদের নিয়ে গোপন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তাও নজরদারীতে রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।
বিসিবির টেন্ডারে এখনো সেই তানভীর আহমেদ টিটুর প্রভাব মারাত্মক অবস্থানে রযেছে । আর এই কর্মকান্ড পরিচলনা করছে টিটু সাম্রাজ্যের কয়েকজন ঘনিষ্ট সহচর। যাদের অন্যতম সেই এসএম রানা।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের অনেকেই আমরা মত অসহায় । নাম প্রকাশ করে যে কোন ব্যক্তি ওসমানীয় অপকর্মের ফিরিস্তি প্রকাশ করলেই মারা যাবে নিশ্চিত। আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে নানা হয়রানী ছাড়াও মুখ খুললেই ব্যবসা করতে পারবে না কেউ। তাই সকলেই থাকি বধির আর কানা হয়ে। ওসমানীয় এই নির্লজ্জ দালাল বিতর্কিত মোহাম্মদ হাতেম কতটা ভয়ংকর তা চিন্তা করাই কঠিন। নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে পুত্রকে ব্যবহারসহ এক ছাত্র নেতার হাতে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখে। এই হাতেমকে নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনার পর পিনাকিও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছেন । তারপরও তার গদী টিকিয়ে রাখতে হবেই ওসমানীয় প্রেসক্রিপশনে। কারণ বিকেএমইএ ব্যবহার করে ওসমানীয় অপকর্ম, যাতে ফাঁস হয়ে না যায় সেই লক্ষেই যত আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছে এই হাতেম। হাতেম যদি ওসমানীয় দালাল না ই হন তা হলে সেলিম ওসমানের যত অপকর্ম আছে তার সবই জানেন হাতেম। তাই ওসমানীয় অপরাধ প্রকাশ্য প্রকাশ করে প্রমাণ করুক তিনি সৎ ও ওওসমানীয় দালাল নন তিনি । যেভাবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন হাতেম জামায়াত আর শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় জড়িত নন তিনি।’









Discussion about this post