মাত্র চার (৪) মাসের ব্যবধানে আবারো সোনারগাঁয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) জমিতে গড়ে ওঠা এক হাজারের বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
কখনো জেলা প্রশাসন কখনো উপজেলা প্রশাসন, কখনো থানা পুলিশ, কখনো সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভিন্ন ভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় এই ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি করলেও কয়েকমাস পর পর এই অভিযান নামক উচ্ছেদ উচ্ছেদ নাটক মঞ্চায়ন করে ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘন্টার পর ফের সেই পুরানো চেহারা দেখা যায় একই স্থানে।
এভাবেই চলছে বছরের পর বছর যুগের পর যুগ। যার কোন স্থায়ী সমাধান না করে শুধু অনৈতিক বাণিজ্য করেই যাচ্ছে অসাধু চক্র। উচ্ছেদ চলাকালীন সময় সেই প্রতিবাদীরাই কঠোর সমালোচনা করতে দেখা যায়। অনেকেই সমালোচনা করে বলেন,“এই চার মাস কি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি ওয়াহেদ মোর্শেদ চোখ বন্ধ করে ছিলেন ? কি করেছেন তারা এই চারমাস ? কেমন করে ২৬ জানুয়ারী এচ্ছদের পর আবার এরা সড়ক দখল করে এই ব্যবসা চালাচ্ছে ? তাইলে দায়ী কার এই দোকানীরা নাকি প্রশাসন ? আর এতেই প্রমাণ হয় ‘সর্ষের ভিতর ভূত !‘ এই ভূত আগে তাড়ানো জরুরী।
সেই পুরানো উচ্ছেদ নামক নাটকের ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালান সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা রহমান।
এমন উচ্ছেদের বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ জানান, ইউএনওর নেতৃত্বে আমাদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মোগরাপাড়া এরিয়ায় অবৈধ দখলদাররা অসংখ্য দোকানপাট স্থাপন করেছে, যার মধ্যে আমরা শুধু আজ চট্টগ্রামমুখী লেনে এ অভিযান করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদের এমন মন্তব্যের পর অনেকেই বলেছেন এই কর্মকর্তারাই আবার টাকা নিয়ে দোকান বসানোর জন্য লোক পাঠাবে ? চাঁদা দিয়েই অনেকেই পেটের দায়ে রাস্তার পাশে দোকান বসাবে।
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা রহমান এই উচ্ছেদের বিষয়ে জানান, সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এক হাজারের বেশি দোকানপাট উচ্ছেদ করেছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ২৬ জানুয়ারী (রোববার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উচ্ছেদ নামক নাটকের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি ওয়াহেদ মোর্শেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
ওই সময় (২৬ জানুয়ারী) উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সকলের সামনেই উপস্থিত অনেকেই কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, “এই উচ্ছেদ কতক্ষনের জন্য ? কতক্ষণ পর টাকা দিয়ে আসলেই আবার বসবে পসরা ? মূলতঃ টাকার টান (প্রয়োজন) পরলেই চলে উচ্ছেদ উচ্ছেদ নাটক। গোপনে প্রয়োজন ও চুক্তি মোতাবেক টাকা দিলেই আবার যে লাউ সেই কদু । আর এখন উচ্ছেদ চলিয়ে বাহ বাহ নিচ্ছেন সড়ক ও জনপথ।”









Discussion about this post