‘বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদকে বিতর্কিত করছে ও জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে নাবালক উপদেষ্টারা। এদের এখনই সরান না হলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে দেশ। এখনই যদি অভিজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে ঢেলে সাজান না হয় যা হবার তাই হবে।’
এভাবেই আজ শুক্রবার (২৩ মে) বিকাল তিনটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গোলচত্বর এলাকায় এমন মন্তব্য করেন। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
নুরুল হক নুর বলেন, ৫ তারিখের পর গণঅধিকার পরিষদ একটি টাকাও চাঁদাবাজি করেনি, দখলবাজি করেনি। আপনারা যারা এসব করছেন আপনারা সঠিক পথে আসুন। বিএনপির এক নেতা নাকি আমাদের সমাবেশে যারা আসবে তাদের মামলা দেওয়া হবে বলে সমাবেশে আসতে বাধা দিয়েছেন। আমি তাদের হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই, গণঅধিকার পরিষদ আওয়ামী লীগের কুতুবদের হিসাব করে কথা বলেনি আপনাদেরও হিসাব রাখব না- বাধ্য করলে। বিএনপির হাইকমান্ডকে বলবো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এ এলাকায় চাঁদাবাজি-দখলবাজি কারা করছে এর সব খবর মানুষ জানেন।
গণঅধিকার পরিষদের সমাবেশকে ঘিরে বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাত থেকেই রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গোলচত্বর এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে চেয়ার ও স্টেজের মালামাল এনে রাখা হয়। আজ শুক্রবার ভোর থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বন্ধ করে সড়কের মাঝখানে স্টেজ তৈরি করা হয়।
এতে করে সড়কের উভয় দিকে সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ থেকে পথচারীরাও। আর তাতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুলতা গাউছিয়া মার্কেট, তাঁত বাজার, হাজী শপিং কমপ্লেক্স, রেদওয়ান টাওয়ারসহ হাট-বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্য পাশ দিয়ে উল্টো পথে যানবাহন চলাচল করে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ভোগান্তির শিকার স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সমাবেশ করার জন্য রূপগঞ্জে অনেক মাঠ থাকার পরও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম একটি ব্যস্ততম মহাসড়ক এমন সমাবেশ করা কতটা যৌক্তিক ? এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ততম একটি মহাসড়ক এভাবে দখল করে সমাবেশের আয়োজনের বিষয়টি অত্যান্ত কষ্টদায়ক । মহাসড়ক দখল করে সমাবেশের আয়োজন করায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আমরা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছি। এ সমাবেশের ব্যাপারে আমরা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি কাউসার আহমেদ জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে আমরা অনুমতি নিয়েছি। সড়কে স্টেজ করলেও আমরা বিকল্প পথ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রেখেছি।
ভোগান্তির রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই । ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখেছি।
এমন ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার সি সার্কেল মেহেদী ইসলাম বলেন, গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে একটি সমাবেশ করবে বলে আমাদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বন্ধ করে স্টেজ করে সেখানে সমাবেশ করবে সেটা তো সম্পূর্ণ বেআইনি।









Discussion about this post