আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া আদেশনামা ও পরোয়ানা ফেরত তৈরির অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর সহকারীর (মুহুরী) বিরুদ্ধে।এমন ঘটনায় আজ সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সিয়াম আহমেদ নামে এক আইনজীবীর সহকারী (মুহুরী) কে আটক করা হয়েছে।
মুহুরী সিয়াম নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন সরকারের সহকারী ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালত সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ থানার দায়ের করাএকটি হত্যা চেষ্টার মামলায় মো. রুবেল ভূইয়া নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে।
পরবর্তীতে রুবেল ভূইয়া আইনজীবীর সহকারী সিয়াম আহমেদের কাছে গেলে তিনি নিজেই বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে একটি আদেশনামা ও পরোয়ানা ফেরত (জামিননামার) কাগজ তৈরি করে রুবেল ভূঁইয়াকে দেন।এদিকে ওই মামলায় রবিবার রাতে রুবেলকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করলে তার স্বজনরা মুহুরী সিয়াম আহমেদের দেয়া ওই আদালতের ভুয়া আদেশনামা ও পরোয়ানা (জামিননামার) ফেরতের কাগজ দেখান।এমন ওয়ারেন্ট ফেরত অর্থাৎ জামিননামার কাগজের বিষয়টি রূপগঞ্জ থানার ওসির সন্দেহ হলে তিনি সেটি অনুসন্ধানের জন্য নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শককে পাঠান।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক অনুসন্ধান এবং যাচাই করে আদালতের আদেশ ও পরোয়ানা ফেরতের কাগজটি ভুয়া বলে জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
বিচারকের স্বাক্ষর নকল করে এমন জামিননামার কাগজের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোঃ কাইউম খান জানান, কয়েক মাস আগে থেকেই আমাদের কাছে আইনজীবীদের কয়েকজন অভিযোগ করছিলেন আদালত থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞ বিচারকগণের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন আদেশনামা এবং পরোয়ানা ফেরত তৈরি করে প্রতারণা করছে একটি চক্র। রমন খবরের পর রবিবার রাতে রূপগঞ্জ থানায় পরোয়ানা ফেরত গেলে সেটা আমাদের কাছে পাঠানো হয় এবং আমাদের কাছে এটি সন্দেহ হয় এবং জালিয়াতি ধরা পরে।কাইউম খান আরও বলেন, অনুসন্ধান করে জানতে পারি অ্যাডভোকেট ধীরেন সরকারের সহকারী সিয়াম আহমেদ বিচারকের সি স্বাক্ষর নকল করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে।
এ বিষয়ে সহকারী সিয়াম আহমেদ সম্পর্কে অ্যাডভোকেট ধীরেন সরকার জানান, সিয়াম আহমেদ আমার সহকারী ছিলো। তবে তার এই জালিয়াতির বিষয় আমার জানা ছিল না। তাকে আমি আর সহকারী হিসেবে নিবো না। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
বিচারকের স্বাক্ষর নকল করার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সভাপতি হামিদুর রহমান জানান, আমরা ওই সহকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তার পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। আইনানুযায়ী তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।নারায়ণগঞ্জ আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন জানান, মুহুরী সিয়াম আহমেদ নামে এক সহকারীর বিরুদ্ধে আমরা স্বাক্ষর জালিয়াতির কথা শুনেছি। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে সিয়াম যে আইনজীবীর সহকারী ছিল তাকে ডেকে এনে সতর্ক করেছি।
Discussion about this post