শেখ হাসিনার আস্কারায় গডফাদার শামীম ওসমান কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন তার হিসাব করা কঠিন। শামীম ওসমানের একেকজন চেলা যেন কোটিপতি। কেউ কেউ শত কোটি টাকার মালিক। দুই চারজন হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে দেশে বিদেশে পলাতক।
তেমনি এক চেলাখ্যাত পল্টিবাজ নৌকার মাঝিখ্যাত পলাতক সেই গডফাদার শামীম ওসমানের শিষ্য / চেলা কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় ৭/৮টি মামলা মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই নৌকার মাঝি সেন্টু।
পুলিশ সেন্টুকে গ্রেফতার না করায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপিতে প্রবেশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে খিচুড়ি বিতরণের জন্য ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন সেন্টু। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে কোন সমস্যা না করে সে জন্য অসাধু কর্তাকে দেয়া হয়েছে আরো ৫০ লাখ।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এক কোটি টাকা এমন ব্যয় করে সেন্টু বিএনপির ব্যানারে মাঠে নামার অপচেষ্টার খবর ছড়িয়ে পরলে ওৎ পেতে থাকে বিএনপির কিছু কর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থার কেউ কেউ।
এমন ওৎ পেতে থাকার খবর পেয়ে আর প্রকাশ্যে আসার সাহস করে নাই এই পল্টিবাজ সেন্টু।
এমন ঘটনায় ফতুল্লার কুতুবপুরবাসীর সমালোচনায় উঠে এসেছে, এই সেন্টু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে ভূমিদস্যুতা করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সেন্টু চেয়ারম্যান ছিলেন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ চেয়ারম্যানদের মধ্য অন্যতম।
সেন্টু ও শামীম ওসমানের ডানহাত হিসেবে পরিচিত শাহ নিজাম পুরো ফতুল্লা ও কুতুবপুরে ব্যাপক বূমিদস্যুতা চালিয়েছে বীরদর্পে। জায়গা কেনাবেচা এবং জমি নিয়ে বিচার সালিসি করতো সেন্টু আর নিজাম। নম পার্কে বিচার সালিসির নামেও চলতো নানা নগ্ন কর্মকাণ্ড। ছিলো সেন্টু ও নিজামের টর্চার সেল।
এই দুজন ৫ আগস্টের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সেন্টু এখন রয়েছে অধরা।
নিজাম পালিয়ে গেলেও সেন্টুকে প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন তোড়জোড় নেই।
সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুরে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে, পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে অঢেল টাকা ছিটিয়ে সেন্টু বহাল তবিয়তে আছেন। সে প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা কেউ তার বিরুদ্ধে টুঁ শব্দও করে না।অত্যান্ত চতুরতার সাথে সেন্টু চেয়ারম্যান এলাকায় ও ঢাকায় চলাফেরা করছে নির্বিঘ্নে।









Discussion about this post