সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আরও ৪ (চার) টি মামলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনূর আলম।
২৭ ও ৩০ জুন দায়ের করা মামলাগুলোর বাদী হয়েছেন মো. সিরাজুল ইসলাম (৫৮), মুনজিল হোসেন (৫০), মো. আল আমিন (২৩) ও মো. ওয়াজেদ আলী (৪০)।
মো. আল আমিন বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের (৭২), আসাদুজ্জামান খান কামাল (৭৩), একেএম শামীম ওসমান (৬৪), শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান (৩৭), ভাতিজা আজমেরী ওসমান (৪৫) ও (নাসিক) ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল (৪২), আরো অজ্ঞাত রয়েছেন ৬০-৭০ জন।
অপর মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে শামীম ওসমান (৬৪), শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান (৩৭), ভাতিজা আজমেরী ওসমান (৪৫) এবং শাহজালাল বাদল (৪২)। এই মামলাটিতে অজ্ঞাত হিসেবে রয়েছে ১০০-১৫০ জন।
ওয়াজেদ আলীর দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের (৭২), আসাদুজ্জামান খান কামাল (৭৩), একেএম শামীম ওসমান (৬৪), শামীমপুত্র অয়ন ওসমান (৩৭), ভাতিজা আজমেরী ওসমান (৪৫) ও (নাসিক) ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল (৪২)। এই মামলায় অজ্ঞাত ৬০-৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
আর মুনজিল হোসেনের দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের অজ্ঞাত আসামী ৭০-৮০ জন।
দায়ের করা মামলায় অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছাত্র-জনতার কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বৃষ্টি হার্ডওয়ার দোকানের সামনে বাদী মুনজিল হোসেনের ছেলে মো. সুজন খান (২৯) উপস্থিত ছিলেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা ঘটনাস্থলে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে ভিকটিম সুজন খান নাভির নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেল ৪টার সময়ে মামলার বাদী সিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই আলাউদ্দিন (৩৬) আন্দোলনরতদের সঙ্গে যোগ দিলে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদানীনগর অংশে বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভ দমাতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে ভিকটিম আলাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। একইদিন মহাসড়কের ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ভবনের সামনে মামলার বাদী ওয়াজেদ আলীর ছোট ভাই ভিকটিম আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। গুলিবিদ্ধের দু’দিন পর ডাচ্ বাংলা ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।









Discussion about this post