রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীন এবার তার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির নতুন সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির ঘটনা ধামাচাপা দিতে চালিয়ে যাচ্ছে দৌড়ঝাপ।
আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামের দিকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। বই বিক্রির সময় স্থানীয়দের হাতে অধ্যক্ষ, পিকআক চালক ও চোরাই বই ক্রেতা হলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলম মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। অনেকেই বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলম নিজেও একজন প্রতারক । তাকে রেখে এই তদন্ত কমিটি কতটুকু স্বচ্ছ হবে ? অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীন আর নূরে আলম তো একে অপরের পরিপূরক । এ যেন চোরে চোরে মাসতুতো ভাই বোন !’
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে একটি নীল রঙের পিকআপভ্যান ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশ করে। এ সময় অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে স্টোর রুম থেকে সরকারি বইগুলো পিকআপে তোলা হয়।
ঘটনাটি বিকেলে স্থানীয়দের নজরে আসলে তারা পিকআপ চালক হেদায়েত উল্লাহ, বই ক্রেতা ও অধ্যক্ষকে আটক করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলমকে খবর দেয়া হয়।
এমন খবরে শিক্ষা অফিসার মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো স্টোর রুমে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিলেও মোটা অঙ্কের বিনিময়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দিয়েেএমন চুরির বিসয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ঘটনায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অধ্যক্ষ সুরাইয়ার বিরুদ্ধে এরপূর্বেও প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অতিরিক্ত বিল উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে জোড়ালোভাবে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের ২৫ হাজার টাকার বিদ্যুৎকাজ দেখিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন সুরােইয়া পারভীন। এবং শিক্ষকদের বঞ্চিত করে সব লেনদেন ব্যক্তিগতভাবে চারিয়ে যাচ্ছে।
এমন অসংখ্য অনিয়মের প্রতিবাদ করায় শিক্ষক বিমল দাসকে নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনেক শিক্ষার্থী জানায়, বই নেই বলে আমাদেরকে বই দেওয়া হয়নি, অথচ সে গুলো বাইরে বিক্রি করে দেয় এই অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করবো বলেও জানায় অনেকত অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ।
এমন গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে ফাঁসাতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।’
হাতেনাতে চুরি করে বই বিক্রির ঘটনায় রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলম বলেন, ‘নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় লাখ টাকার বই জব্দ করা হয়। অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এমন ঘটনার বিস্তারিত। টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলেও জানান নূরে আলম।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম এমন ঘটনায় বলেন, ‘চুরি করে বই বিক্রির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আনা হবে অপরাধীদের।’









Discussion about this post