এবার সেই ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর এই হাসান আলী বিভিন্ন শিল্পকারখানা, ইটভাটায় চাঁদাবাজি করে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। হাসান আলীর এলাকা বক্তাবলী ইউনিয়নের গোপালপুরে তিনতলা ভবন নির্মাণ ও দুটি গাড়িও কিনেছেন তিনি। বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাজাপুর খেয়াঘাট ৩০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে ৭০ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল।
এমন কান্ডে সেই ঘাটের ইজারা বাতিল করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরেক মহা দূর্ণীতিবাজ মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী । হাসান আলীর ৩০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি করার ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দারী করেন এই ইউএনও। যার কারনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বিরুদ্ধে অভিযোগ করে হাসান আলী। এমন ঘটনার পর ফতুল্লার এক ব্যবসায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
হাসান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলকারী ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম মানিক দাবি করেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী সিন্ডিকেট গড়ে চাঁদাবাজি করছেন। একজন আইনজীবীও আছেন তার এই সিন্ডিকেটের মধ্যে। চাঁদাবাজির ৩০ শতাংশ পেয়ে থাকেন ওই আইনজীবী। গত এক বছরে হাসান আলী শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অসংখ্য শিল্পকারখানা, ইটভাটা, ব্যবসায়ী, ফেরিঘাট ও অন্যান্য বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজি করে। গোপালপুরে অল্প দিনেই করেছেন বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ি। কিনেছেন দুটি গাড়ি, যা ঢাকায় ভাড়ায় চালানো হয়। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর পাঁচটি ব্যাংকের সাতটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার ও তার পরিবারের নামে এ পর্যন্ত ৯৬ কোটি টাকা জমা হয়েছে বলেও অভিযোগ উত্তাপন করেছে রবিউল।
আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় প্রভাব ধরে রাখতে অস্ত্র নিয়ে হাসান আলীকে মহড়া দিতেও দেখা গেছে বলে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম তার অভিযোগে জানান।
এমন ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহা দূর্ণীতিবাজ মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এবং উচ্চ আদালত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম মানিককে দিয়ে এমন অভিযোগ করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করতেছে। তবে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছ তদন্ত করা জরুরী বলেও মন্তব্য করেছেন এই সূত্রটি ।
দুদকের নারায়ণগঞ্জ সমন্বিত কার্যালয়ের এক উপ পরিচালক দপ্তরের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে ।
এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসান আলীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।









Discussion about this post