পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এমন অসংখ্য অপরাধের পর পালিয়ে যায় মোজাম্মেল হক ও তার পরিবার।
এমন খবরে ব্যাপক সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের ঘটনার পর এবার ভূমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে পলাতক সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক এবং তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় শহরের নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ভূমিদস্যুতায় পারদর্শী মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, শহরের (গলাচিপা) ১৪নং ওয়ার্ডের ১৮৫/০১ বি.বি. রোডে তাদের পৈতৃক ২৭ শতাংশ জমির উপর পাঁচতলা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারছেন না। সাবেক ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক, খোরশেদ আলম, মোরশেদ আলম বাবু ও আরিফুর রহমান গং ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক সেই বসতভিটা দখল করে নিয়েছেন।
অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ডিআইজি পদে থেকে গাজী মোজাম্মেল হক ভূমিদস্যুতা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংস ভূমিকার মাধ্যমে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে দুটি দেওয়ানি মামলা দায়ের বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তারা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। বরং প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডির মাধ্যমে নানা হয়রানি করে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র্যাব-১১, সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীগণ বলেন, “আমরা আমাদের পৈতৃক বসতভিটা ফিরে পেতে চাই। ভূমিদস্যুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন।”
মানববন্ধনে এসময় উপস্থিত ছিলেন মৃত হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া চাঁন মিয়ার পুত্র মোমেনুর রহমান, আমিনুর রহমান, মামুনুর রহমান, কন্যা শামীমা কামাল রানী, ফাতেমা ইয়াসমিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. রানা ও এলাকার বহু সাধারণ মানুষ।
প্রসঙ্গত: গাজী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তার, স্ত্রীর ও সন্তানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে কর্মরত গাজী মো. মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চলের পাশে স্থানীয়দের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা রিমান্ডে নিয়ে জমি লিখে নেয়া হয়েছে। রাজধানীর পূর্বাচলের পাশে বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে গড়ে উঠছে ‘আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটি’। এ প্রকল্পের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সম্পৃক্ততা নেই। পূর্বাচলের ওই আবাসন প্রকল্পটির বর্তমান বিক্রয়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। মোজাম্মেল-ফারজানা দম্পতির অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভূমি দখলের বিষয়টি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় এবং তা দুদকের নজরে আসে।
এরমধ্যে স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।









Discussion about this post