“পাপ কখনো বাপ কেও ছাড়ে না” এমন প্রবাদের অসংখ্য প্রমাণের পর এবার সেই কুখ্যাত ভূমিদস্যু নানা কেলেংকারীর হোতা রংধনু গ্রুপের মালিক রফিকুল ইসলাম এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান পরিচালনা করে সিআইডি।
এই রফিকুল ইসলাম কে রূপগঞ্জবাসীসহ সকলেই আন্ডা রফিক হিসেবে চিনেন। শুধু রফিকুল ইসলাম হিসেবে অবহিত করলে কেউ তাকে শনাক্ত করতে দ্বিধাদ্বন্দে পরেন। তাই সর্বত্র তিনি আন্ডা রফিক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন বিগত সময়ে তিনি সড়কের পাশে সিদ্ধ করে ডিম বিক্রি করার কারণে।
অনুসন্ধানকালে সিআইডি জানতে পারে রংধনু বিল্ডার্স প্রাইভেট লি. বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট হতে জমি ক্রয় বা পাওয়ার অব এটর্নি গ্রহণ করে বিক্রয় করে।
বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি এর নিকট রফিকুল ইসলাম এর ছেলে কাউসার আহমেদ অপু এবং মেহেদী হাসান দিপু গত ০৮/০৩/২০২২ খ্রি. তারিখে বিভিন্ন দলিলে ৭.৫৭৫১ একর জমি বিক্রয় করে। উক্ত তফসিলভুক্ত জমির মধ্যে গত ০১/০৬/২০২২ খ্রি. তারিখে ৬.৩৩৭৫ একর জমি রফিকুল ইসলাম এর ছেলে কাউসার আহমেদ অপু এবং মেহেদী হাসান দিপু বিভিন্ন দলিলে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি লি. এর নিকট পুনরায় বিক্রয় করে ৫,৭৩,৬০,০০০/- টাকা প্রতারনার মাধ্যমে উপার্জন করে।
এমন তথ্য প্রদান করে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় এমন গুরুতর অভিযোগের খবর। এমন অভিযোগ ছাড়াও একটি সূত্র জানায়, আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিককে না পেয়ে তার ভাই অসংখ্য মামলার আসামী রঙধনু গ্রুপের পরিচালক ও রূপগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিজানকে গ্রেফতারের পর দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনী রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিকের সকল অপরাধের তথ্য গ্রহণ করে। রিমান্ডে থাকাবস্থায় মিজানের তথ্য যাচাই বাছাই ও অনুসন্ধান করে সিআইডি মানিলন্ডারিং মামলা ও সম্পত্তি ক্রোক করার জন্য আদালতের স্বরণাপন্ন হয়।
উপরোল্লিখিত অভিযোগ ছাড়াও পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতিতে বালিভরাট করার ভূয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক হতে ২৭০ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংক হতে ২০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে প্রতারনামূলকভাবে আত্নসাৎ করে। ইসলামী ব্যাংক বারিধারা শাখা হতে ভূয়া মূল্যায়ন কপি তৈরি করে অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহযোগিতায় সম্পত্তির মূল্য দেখিয়ে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করে ঋনের টাকা পরিশোধ না করে অর্থ পাচারের মাধ্যমে ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশ অ্যান্টিগা এন্ড বারবুডার (Antigua and Barbuda) নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন ২০০,০০০০/- ইউএস ডলার বিনিয়োগ করে।
এহেন প্রতারনা, জালজালিয়াতি এবং অর্থ পাচার, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ২ এর শ(৫) (৬) (১৪) ধারা মতে সম্পৃক্ত অপরাধ।বিধায় রফিকুল ইসলাম এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গুলশান থানার মামলা নং- ১৪, তাং- ০৭/০৮/২০২৫খ্রি., ধারা- ৪(২)(৪) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ রুজু করে সিআইডি। একই সাথে ১৩টি ব্যাংক হিসাবের প্রায় ১৭ কোটি টাকা এবং যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল ০২ এ থাকা ১০০,০০০ বর্গফুট কমার্শিয়াল স্পেস বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ক্রোক করেছে সিআইডি।









Discussion about this post