বাহ ! তিনি ছিলেন সাবেক এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী। পাশাপাশি ছিলেন সদর উপজেলার ফতুল্লার একটি ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান। শামীম ওসমান, অয়ণ ওসমান ও আজমেরী ওসমানের পক্ষ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে রাস্তায় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রাণ হারানো আদিলকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। গুলিতে নিহত আদিল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা।
এত্তো অভিযোগ সত্ত্বেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তবুও তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না ফতুল্লা থানা পুলিশ। এর কারণ ওসির সঙ্গেই যে দহরম মহরম তার। সেই সব ছবিও ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে।
উল্লেখিত তথ্য প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটনের বিষয়ে এমন মন্তব্য সকলের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে।
এমন তথ্য ছাড়াও সরকারী জমি দখল, সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় সম্পত্তি দখল করে বিক্রিসহ সকল ধরলের অভিযোগও রয়েছে এই লিটনের বিরুদ্ধে ।
কুখ্যাত গডফাদারখ্যাত সাবেক এমপি শামীম ওসমানের অন্যতম ক্যাডার যুবলীগ নেতা শাহ নিজামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিটন এখনো প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, তেলচুরি, সনাতন ধর্মালম্বীসহ অনেকের সম্পত্তি দখল, মিল ফ্যাক্টরী ছাড়াও শ্রমিকদের কাছে চাঁদাবাজি যে প্রতি দিনের প্রতি মুহূর্তের।
গতকাল রোববার (১০ আগস্ট) সকালে ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড়ে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ফতুল্লা মডেল থানার বিতর্কিত ওসি শরিফুল ইসলাম। (ঘুষ কেলেংকারীসহ নানান কেলেংকারীতে এরই মধ্যে থানার সকল পুলিশ সদস্যদের কাছে সমালোচনার পাত্রে পরিণত হয়েছেন এই শরিফুল)। মানববন্ধনকারীদের শান্ত করতে বক্তব্য রাখেন ওসি শরিফুল। ওই সময় সুযোগ বুঝে কুখ্যাত অপরাধী সাবেক চেয়ারম্যান লিটন ওসি শরিফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন।
এ বিষয়ে ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাবিবুর রহমান লিটন আসলেই ডেভিল (শয়তান)। তা না হলে সে একজন ওসির পাশে দাঁড়িয়ে ফটোশেসন করে পালাতে পারে ? তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু আমি তাকে চিনি না। কেউ যদি তাৎক্ষণিক বলতো, কেউ বললেই তাকে গ্রেফতার করতে পারতাম।’
ফতুল্লার পঞ্চবটী এলাকার অনেকেই জানান, ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ ফতুল্লার হরিহর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজিত কর্মী সভায় বিশাল মঞ্চ তৈরী করে শামীম ওসমানের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগ দেন লিটন। এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন কুখ্যাত এই চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু লিটন। হরিহরপাড়া স্কুলের পাশে এক হিন্দু পরিবারের তিনতলা পুরানো বাড়ি ভেঙে জমি বিক্রি করে দেয়। প্রভাবশালী হওয়ায় লিটন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ বাধা দিতে পারে নি। বিগত সময়ের মতো এখনো বিশেষ পেশার কয়েকজনকে ম্যানেজ করে সনাতন ধর্মালম্বীদের জমি দখল করে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা ।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রকাশ্যে লিটন ও তার দলবল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে ছাত্রদের প্রতিহত করেছেন এই লিটকব ওতার বাহিনী। ওই দিনই লিংক রোডে আন্দোলন প্রতিরোধকারীদের গুলিতে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে আপন ও তার ছেলের বন্ধু আদিল গুলিবিদ্ধ হয়। চোখে গুলি লেগে দৃষ্টি শক্তি হারান আপন। আর মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান যুবক আদিল।









Discussion about this post