মেঘনা নদীতে বাল্কহেডে ডাকাতি করতে গিয়ে নিজের হাতে ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে এক ডাকাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আটক অপর ২ ডাকাতকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। অন্যদিকে ডাকাত দলের হামলায় আহত হয়েছে দুই গ্রামবাসী।
হতাহতদের উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের নিয়ে আনার পর মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করে । অপর আহতকে ঢাকা মেডিকেল কলে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ডাকাতদের আটক করে গণপিটুনি দিলে একজনের মৃত্যু ঘটে অপর একজন গুরুতর আহত হলেও অপর ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে গজারিয়া উপজেলা হোসেন্দী ইউনিয়নের ভাটি বলাকী গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে। স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ডাকাত সদস্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ডাকাত দলের হামলা আহতরা হলো, ভাটি বলাকী গ্রামের ইসহাক বেপারীর ছেলে আলম (৩৭) ও একই গ্রামের রাসেলের ছেলে সোহাগ (১৬)।
এলাকাবাসী জানায়, মেঘনা নদীতে সারারাত ডাকাতির পর ধাওয়া খেয়ে ডাকাত দল মেঘনা নদীর কলাগাছিয়া নৌ ফাড়ির এলাকায় পৌঁছলে এলাকাবাসী আটক করে।
এ সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সালেহ আহম্মেদ পাঠান জানান, ‘আমাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী তারা আজ ভোরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার আনন্দবাজার এলাকা থেকে একটি ছেলেদের ট্রলার ছিনতাই করে। ছিনতাই করা ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে কয়েকজন ডাকাত মেঘনা নদীর গজারিয়া উপজেলার ভাটি বলাকী এলাকায় ডাকাতি করতে যায়। স্থানীয়রা তাদের বাধা দিলে ডাকাতরা জনগণকে উদ্দেশ্য করে কয়েক কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় বলে শুনেছি। ককটেল নিজের হাতে বিস্ফোরিত হয়ে এক ডাকাত সদস্যের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকেসহ তিন ডাকাতকে গণধোলাই দিয়ে জনতা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। তাদের তিনজনের অবস্থায়ই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসার জন্য তাদের নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর একজন মারা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে আমরা দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছি।’
ঘটনার সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার জহিরুল ইসলাম, ‘এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে দুইজন রোগী আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন যার হাতে ককটেলে বিস্ফোরিত হয়েছিল সে মারা গেছে। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা কারোই নাম পরিচয় পাই নাই।’
নৌ পুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে বলেন, এই ঘটনায় এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়েছে। আহত দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনো পর্যন্ত আমরা কারোই নাম পরিচয় পাই নাই । তাদের নাম পরিচয় জানতে চেষ্টা করা হচ্ছে।’









Discussion about this post