প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জে চাকরী করতে আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্তাদের ঘুষ লেনদেন, তদ্বিরসহ নানা দৌড়ঝাপ দেখা গেলেও তার প্রমাণ করা খুবই কঠিন। তদ্বির, তোষামোদ, মোটা অংকের অর্থনৈতিক লেনদেনসহ নানা ঘৃন্য কর্মকান্ড করে নারায়ণগঞ্জে বদলী হয়ে এসেই লুটপাট ও দূর্ণীতির মহোৎসব চালায় যোগদানকৃত কর্তারা।
নারায়ণগেঞ্জের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বদলী হয়ে এসেই বস্তায় বস্তায় ঘুষ ও দূর্ণীতির টাকায় রাতারাতি আঙ্গুল ফলে কলাগাছ বনে যান।
একেকজন কর্মকর্তা দায়িত্বপালনকালে নিজেদেরকে মহাসাধু ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে নানা ছলচাতুরী ও নেতাদের তৈলমর্দন করতেও কার্পন্য করেন না। নারায়ণগঞ্জে চাকরীকালীন সময়ের পর বদলীজনিত কারনে বিদায়ের পূর্বে ও পর ধীরে ধীরে বেড়িয়ে আসে কর্তাদের থলের বিড়াল।
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্যতম ধনী জেলা নারায়ণগঞ্জে চাকরীরত শীর্ষ কর্মকর্তকদের অতীত ইতিহাস অত্যান্ত জঘন্য। বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জের এমন তিনজন পুলিশের শীর্ষ কর্তকর্তাসহ ১৮ পুলিশ কর্তাকে এবার বহিস্কার করা হয়েছে ।
১৮ জন পুলিশ কর্তার মধ্যে রায়ণগঞ্জের সাবেক তিনজন এসপি এই জেলায় দায়িত্বপালনকালে কি কি কর্মকান্ড করেছেন তার হিসেব সকলের জানা থাকার পরও এই বরখাস্ত করার আদেশ আজ ১৮ আগষ্ট গণমাধ্যেমে প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে নারায়ণগঞ্জে ।
অনেকেই বলেছেন, সৈয়দ নূরুল ইসলামের কারণে সকল অপরাধীরা যেন ছিলো এসপির “তালতো ভাই”। সাত খুনর মূল হোতা ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের বাড়িতে, রঙ্গ খানায় ও গোপন আস্তানার নিত্য দিনের সঙ্গি ছিলেন এই নূরুল ইসলাম। সাত খুনের ঘটনায় নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও সৈয়দ নূরুল ইসলাম তার ঘনিষ্টজন খ্যাত সাত খুনের আসামীসহ অন্যন্য অপরাধদের আর রক্ষা করতে পারেন নাই ।
এরপর এসপি হারুন ছিলেন একজন অপপ্রতিরোধ্য অপরাধীদের গডফাদার। এক বনে যেমন দুই বাঘ থাকতে পারে না তেমনি নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের মতো গডফাদারকে ঘায়েল করতে এসপি হারুনও ছিলো ষোল আনা। মিনিস্টারের মতো করে আগে পিছে পুলিশের বহন নিয়ে হর্ণ বাজিয়ে জানান দিতেন এসপি হারুন এলাকায় আছেন, অতঃএব সাবধান। টাকার কাছে তিনি ছিলেন অত্যান্ত দুর্বল । তার অবৈধ টাকা তোলার জন্য ক্যাশিয়ার ছিলো কমপক্ষে (থানার ক্যাশিয়ার ছাড়াও) কুড়ি জন। তিনি নিজ পেশার পুলিশ কনষ্টেবলদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজি করেছেন দাপটের সাথে। এমন অর্থনৈতিক অসংখ্য ঘৃন্য কর্মকান্ডের পর পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেমের ছেলে ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেলের কাছে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন এসপি হারুন। তার দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় রাসেলের গুলশানের বাসা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে তুলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যান। পরে তাদেরকে নিয়ে একটি নাটক সাজান। রাসেলের গাড়িচালক সুমনকে গ্রেফতার দেখিয়ে গাড়িতে থাকা গুলি, মাদক উদ্ধার দেখিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়। এমন ঘটনায় ফেঁসে গিয়েও আওয়ামীলীগ শাসনামলে পুরস্কৃত হয়েছেন এই হারুন।
এসপি নূরুল ইসলাম ও এসপি হারুনের মতো এতাটা দূধর্ষ না হলেও লুটপাট ও ঠান্ডা মাথার অপরাধী ছিলেন এসপি জাহেদুল আলম ফুয়াদ। করোনা কালীন সময়ে পুলিশের রেশনের বিশাল অর্থ লুটপাট।, পুলিশের সম্পদ ভাড়া দেয়ার নামে লুটপাট, জ্বালানী তেলের হিসেব পুরোটাই গিলে খাওয়াসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড ছিলো নিত্য দিনের রুটিনে।
নারায়ণগঞ্জে চাকরীরত অবস্থা্য় পেশাদারিত্ব বজায় না রেখে ঘুষ ও দূর্ণীতির করে বীরের বেশে আওয়ামীলীগের শাসনামলে বারবার পুস্কৃত হয়েছেন এই অপরাধীরা। যার মাসুল এতেদিন পর হলেও পেতে হচ্ছে। এমন বলছেন নারায়ণগঞ্জের অনেকেই।
জানা যায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ ১৮ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন ডিআইজি, ছয়জন অতিরিক্ত ডিআইজি, চারজন পুলিশ সুপার, চারজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং একজন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৮ জন কর্মকর্তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(গ) অনুযায়ী পলায়নের শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় বিধি ১২ উপবিধি (১) অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।
সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন :
১. মোহামম্মাদ হারুন অর রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা।
২. সঞ্জিত কুমার রায়, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা।
৩. রিফাত রহমান শামীম, সাবেক যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা। বর্তমানে অ্যাডিশনাল ডিআইজি, রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, চট্টগ্রামে সংযুক্ত।
৪. কাজী আশরাফুল আজীম, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, চট্টগ্রামে সংযুক্ত ও সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা।
৫. হাসান আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনা
৬. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ ও বর্তমানে ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী
৭. মো. আসাদুজ্জামান, সাবেক পুলিশ সুপার, ঢাকা জেলা ও বর্তমানে পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে সংযুক্ত
৮. মোহামম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত ডিআইজি, এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়ি
৯. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, অ্যাডিশনাল ডিআইজি, এপিবিএন (পার্বত্য জেলাসমূহ)
১০. শ্যামল কুমার মুখার্জী, অতিরিক্ত ডিআইজি, রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, রাজশাহীতে সংযুক্ত
১১. আয়েশা সিদ্দিকা, পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় রাজশাহীতে সংযুক্ত
১২. রাজন কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৮ এপিবিএন, উখিয়া, কক্সবাজার
১৩. মির্জা সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকা
১৪. মো. হাবিবুল্লাহ দালাল সহকারী পুলিশ সুপার, পুলিশ স্টাফ কলেজ, ঢাকা
১৫. রাশেদুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, বিএমপি, বরিশাল
১৬. মো. মনিরুজ্জামান অতিরিক্ত ডিআইজি, ট্যুরিস্ট পুলিশ ঢাকা
১৭. মো. আবু মারুফ হোসেন, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার, আরপিএমপি, রংপুর বর্তমানে এটিইউ, ঢাকা।
১৮. মহা. আশরাফুজ্জামান, ডিআইজি (কমান্ড্যান্ট)।









Discussion about this post