দীর্ঘ এক বছর যাবৎ ফ্যাসিষ্ট সরকারের অন্যতম সুৃবিধাভোগি অপরাধীরা আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ম্যানেজ করে অসংখ্য মামলার আসামীরা বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলের মতোই চালিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, তেল চুরি, মাদকের কারবার, সনাতন ধর্মালম্বীদের জমি দখল করে বিক্রিসহ সকল ধরণের অপরাধ।
সকল ধরণের অপরাধ করেও মাথার উপর এতো মামলা নিয়ে পুলিশের কাঁধে কাঁধ রেখে অপরাধ যেন চালাচ্ছে বীরের বেশে। এমন অপরাধনামার অসংখ্য সংবাদ প্রকাশের পর কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙ্গানো সম্ভব হয় নাই ।
অথচ আইনশৃংখলা বাহিনী প্রতিদিন নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা নারায়ণগঞ্জে চাকরী করতে এসে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বিরামহীনভাবে। এমন সততার প্রমাণ দিতে এবার দৈনিক যুগান্তর সামান্য সততার চিত্র তুলে ধরেছে।
জানা যায়, ফতুল্লায় ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ দেখেও না দেখার মতোই নীরব ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও প্রশাসনের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারাও ছাত্রদের ওপর হামলা ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে তৎপরতা কমিয়ে দিয়েছে।
এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মামলার বাদী ও সাধারণ মানুষ।
একাধিক সূত্র জানান, ফতুল্লার নরসিংপুর এলাকার রশিদ মিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিংসহ প্রভাব বিস্তার করতেন রশিদ। হাসিনা সরকার পরিবর্তনের পরপরই তিনি বিএনপি কর্মী দাবি করে নরসিংপুরসহ বক্তাবলী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দৃষ্টিতে আসলে রশিদকে সবাই চিনে ফেলেন। এতে ছাত্রদের ওপর হামলাকারী হিসাবে শনাক্ত করে অন্তত ১৫/১৬টি ঘটনায় রশিদের বিরুদ্ধে হামলা ও হত্যার অভিযোগে পৃথক মামলা হয়।
এছাড়াও পুলিশ জানিয়েছে রশিদের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা রয়েছে।
এতো মামলার আসামি হওয়ার পরও রশিদকে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তৎকালীন প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের আশীর্বাদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। শামীম ওসমানের ডান হাত হিসাবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শাহ নিজামকে সঙ্গে নিয়ে ভূমিদস্যুতা, সরকারি ডিপো থেকে তেল চুরির কারবার প্রকাশ্যেই করতেন। শামীম ওসমান ও শাহ নিজামের প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন লিটন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলাকারী হিসাবে শনাক্ত করে লিটনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও পুলিশ জানিয়েছে লিটনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় লিটন আদালত থেকে জামিন না নিয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
শামীম ওসমানের শিষ্য হিসাবে পরিচিত কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সাইনবোর্ড ভূইগড় দেলপাড়া এবং পাগলা এলাকায় শামীম ওসমানের নির্দেশে সেন্টু তার লোকজন দিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় একাধিক ছাত্র জনতা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদের ওপর হামলাকারী হিসাবে শনাক্ত করে সেন্টুর বিরুদ্ধে হামলা ও হত্যার অভিযোগে অন্তত ৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় জামিন না নিয়েও সেন্টু সভা সমাবেশে প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করছেন।
তাদের ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যা মামলার আসামি শিহাচর লালখাঁ এলাকার ডিস ডালিম, সজল, ইবু, লামাপাড়া এলাকার ট্রাকস্ট্যান্ড সেলিম, ইসদাইরের আউয়াল মেম্বার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ছাত্র আন্দোলনে নিহত মাদ্রাসাছাত্র আদিলের বাবা ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, এ সরকার আমলেই হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চাই। কিন্তু পুলিশ এতো নীরব ভূমিকা পালন করলে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হব। পুলিশ বিভাগের কাছে আমার অনুরোধ ছাত্রদের ওপর হামলাকারী হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেন।









Discussion about this post