আজ সেই পাইকপাড়ার অপারেশন ‘হিট স্ট্রং টোয়েন্টি সেভেন’।
নয় বছর পূর্বে অর্থাৎ ২০১৬ সালের আজকের এই দিন ২৭ আগষ্ট ভোর থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যপক তৎপরতা ছিলো লক্ষনীয়। প্রথমে কেউ কিছু অনুধাবন করতে না পারলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা আসতে শুরু করে নারায়ণগঞ্জে। শহরের পাইকপাড়া বড় কবরস্থানের পাশেই তিন তলা ভবনে শুরু করে অভিযান।
শ্বাসরুদ্ধকর সেই অভিযানে দেশের শীর্ষ জংগী তামীমসহ কয়েক জংগির সাথে গুলি বোমা বিস্ফোরণের পর থেমে যায় হাজারো গুলি বোমা বর্ষণের শব্দ।
ওই অভিযান শেষে মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসবি) ফারুক হোসেন জানান, সন্ত্র্রাস দমন আইনের এ মামলায় ‘নব্য জেএমবি’র শীর্ষ নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ নিহত তিনজনের কথা রাখা হয়েছে আসামির তালিকায়। তবে বাকি দুজনের নাম সেখানে লেখা হয় নাই। অজ্ঞাতপরিচয় ‘আরও অনেককে’ এজাহারে আসামি করা হয়েছে।
জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পেয়ে ২৭ আগষ্ট শনিবার সকালে পাইকপাড়ার কবরস্থান এলাকার নরুউদ্দিন দেওয়ানের তিনতলা বাড়ি ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। একই সাথে র্যাবসহ অন্য বাহিনীগুলোও অভিযানে যোগ দেয়।
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ‘হিট স্ট্রং টোয়েন্টি সেভেন’ নামে এক ঘণ্টার ওই অভিযানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক জঙ্গিনেতা তামিমসহ তিনজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেন।
অভিযানের পর ওই আস্তানা থেকে একে-২২ রাইফেল, পিস্তল, গুলি, চাপাতি ও ছোরাসহ কয়েকটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয় বলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়।
কানাডা থেকে ২০১৩ সালে দেশে আসার পর থেকে নিখোঁজ তামিম বাংলাদেশেই ছিলেন বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছিলেন। তার নির্দেশনায়ই গত ১ জুলাই জঙ্গিরা গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়েছিলো বলে গোয়েন্দাদের দাবি। তামিম কে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা কেরা হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে।
রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলায় ঘরছাড়া তরুণ-যুবকদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজ ১০ জনের যে প্রথম তালিকা দিয়েছিল, তাতে সিলেটের তামিমের নাম এসেছিল। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিভিন্ন প্রকাশনার উপর ভিত্তি করে তাকে সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক বলা হচ্ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।
ওই অভিযানে নিহত অন্যজন ঢাকার ধানমণ্ডির তাওসীফ হোসেন বলে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।
ধানমণ্ডির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডা. মো. আজমলের ছেলে তাওসীফ গত মার্চে ঘর ছাড়েন। গুলশানের ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে নিহত নিবরাজ ইসলাম, শোলাকিয়ায় হামলার পর পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত আবীর রহমান এবং কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নিহত শেহজাদ রউফ অর্কও একই সময়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন বলে তাদের পরিবারের ভাষ্য।
গত ১ জুলাই গুলশানের ক্যাফেতে হামলার আগে ঢাকার এই চার তরুণই ঝিনাইদহের একটি মেসে ছিলেন বলে জুলাইয়ের শেষদিকে জানিয়েছিলেন জঙ্গি-তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন পুলিশ সুপার মঈনুল হক অভিযানের পর ২০১৬ সালের ২৮ আগষ্ট রোববার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, তামিমরা গত ২ জুলাই ওই বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন বলে ভবন মালিক নুরুউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা জানতে পেরেছেন। তথ্য গোপনের অভিযোগে নুরুউদ্দিনকে তারা গ্রেপ্তারও করা হয়।
পাইকপাড়ার এই “বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় তারা বলেছিল, তারা আগে একমি ল্যাবরেটরিজে কাজ করত। এখন ওষুধের ব্যবসা করছে, এই পরিচয় দিয়ে তারা দুজন বাড়ি ভাড়া নেয়। সেখানে যে তিনজন থাকত, তা বাড়ির মালিক জানতেন।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওই সময় পুলিশ সুপার বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ‘নিরাপদ মনে করে’ ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে আস্তানা গড়ে তোলেন জঙ্গি নেতা তামিম। বিদেশিদের ওপর হামলারও ‘পরিকল্পনা ছিল’ তাদের।
পুলিশ ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ‘ব্লক রেইড’ চালাচ্ছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন মঈনুল হক জানান।









Discussion about this post