আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের ১০ কোটি টাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল।
২০২২ সালের ৩ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেই ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন তিনি। নিজেকে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী প্রমান করতে এমন কোন অপকর্ম ছিল না যা তিনি করেন নাই। সবশেষ নগরীর লাখো অটো রিকশা থেকে প্রতিমাসে ১৫ টাকা হারে চাঁদাবাজি করে এই এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেলেন নাম পাল্টে অটো রাসেল হিসেবে নারায়ণগঞ্জে পরিচিত লাভ করেন এই পুলিশ সুপার।
নারায়ণগঞ্জ জেলায় যোগদান করার এক মাস না পেরুতেই এই এসপি অটো রাসেল নিজে নগরীর ২ নং রেল গেইট এলাকায় অবস্থান নিয়ে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিলে গুলি করে শাওন নামের এক যুবদল কর্মীকে।
বুকের বামপাশে গুলি লেগে পড়ে যান যুবদল কর্মী শাওন প্রধানের। তাকে উদ্ধার করে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পহেলা সেপ্টেম্বরের ওই দিনের একটি ভিডিও
আজও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাসে।
ওই ছবিতে দেখা যায়, ডোরাকাটা সাদা টি-শার্ট, কালো জিন্স পরা শাওন ছিলেন মিছিলে সামনের সারিতে। অথচ মূহুর্তের মধ্যেই রাজপথে লুটিয়ে পরে প্রাণ হারান শাওন।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডিবি পুলিশের এসআই মাহফুজুর রহমান কনকের রাইফেল থেকে ছোড়া গুলিতে শাওনের মৃত্যু হয়।
নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নিহত শাওনের পরিবার তৎকালীন সময়ের ডিসি মঞ্জুরুল হাফিজ, এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল ওরফে অটো রাসেল, এসআই কনকসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে।
পুলিশের গুলিতে নিহত শাওনের বাড়ি সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপাল নগরে। তিনি ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির কাজ করলেও যুবদল কর্মী হিসেবে রাজপথে থাকতেন তিনি।
আওয়ামী লীগের পটপরিবর্তনের পর শাওন হত্যায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে এসআই কনক কারাগারে থাকলেও সাবেক এসপি রাসেল ওরফে অটো রাসেল রয়েছেন পলাতক।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল হাসিনুজ্জামান জানান, ‘মামলার প্রধান কনকসহ দুইজন আসামি কারাগারে আছেন। তাদের ১৬৪ জবানবন্দির জন্য আমরা আদালতে পাঠিয়েছিলাম। বাকি আসামিরা পলাতক আছে। এ ছাড়া তদন্ত অব্যাহত আছে।









Discussion about this post