নারায়ণগঞ্জের বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া কয়েকজন নেতা স্বপদে ফিরে আসতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমে জোড়ালোভাবে তদ্বির অব্যাহত রেখেছে।
এদের মধ্যে অন্যতম বহিষ্কার হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।
এই ইকবাল ছাড়াও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের তোড়জোড় চলছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে কয়েকজন বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে।
বিএনপির একাধিক নির্ভরশীল সূত্র জানায়, বিএনপি নাম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যাপক চাঁদাবাজি, লুটপাটসহ সকল ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছিলো অনেকেই। এদের মধ্যে সকলের তালিকা ও তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পর ইকবাল হোসেনের মতো কেউ কেউ বহিষ্কার হন। এছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে ওসমানী দালালী করায় বহিষ্কার হন বিএনপির কয়েকজন নেতা।
দলের এমন কঠোর আদেশের পরও ওসমানী দালালী করে প্রতি মাসে মোটা অংকের অর্থ আদায়সহ ওসমানীয় অর্থায়নে প্রতি মাসে দফায় দফায় বিশাল খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও করছে বিএনপির বহিস্কৃত কেউ কেউ।
একই সাথে ওই বহিস্কৃত কয়েকজন নেতা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ব্যবসায়ী পার্টনার এবং ওসমানীয় অন্যতম সহচর নামধারী ব্যবসায়ী নেতা বিএনপির টিকেট পেতে বিশাল বিশাল শোডাউন করে যাচ্ছে ওই বহিস্কৃত নেতাদের মাধ্যমে।
এমন বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ইকবালসহ আরো চিহ্নিত কয়েকজন বহিস্কৃত নেতারা বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে কেন্দ্রে লবিং করছে বলেও জোড়ালো গুঞ্জন রয়েছে নগরীজুড়ে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও গবেষক মিনহাজ আমানকে মারধরের অভিযোগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
বহিষ্কারাদেশে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করার ভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।
এমন ঘটনা ছাড়াও ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম দোসর সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী মঞ্চে ওঠায় বিএনপির ৬ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়ে।
বিদায়ী ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলের ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর শনিবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ওই তথ্য জানান।
এমন বহিষ্কার হওয়া নেতারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ও জেলা বিএনপির নেতাদের কাধে ভর করে গত এক বছর যাবৎ নানাভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক চাঁদাবাজিসহ সকল ধরনের অপরাধ।
দল থেকে বহিষ্কারের পরও বিএনপির নাম ব্যবহার এবং নেপথ্যে ওসমানীয় দালালী করে এমন বহিস্কৃতদের দোড়াত্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের অনেকে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া এমন নেতাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে সাধারণ মাঠ পর্যায়ের নেতা বলেন, ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামান যে বিশাল শোডাউন করেছে তার আয়োজক ছিলেন বহিষ্কার হওয়া এক নেতা। র্যালীর পর খাবারের প্যাকেট, নগর টাকা, গেঞ্জি, ক্যাপ দেখে দেখে ওই বহিস্কৃত নেতার কার্যালয় থেকে বিতরণ করা হয় পর্দার আড়ালে থেকে।
এমন কোটি কোটি টাকা নিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চেষ্টা-তদবিরের গুঞ্জন নগর বন্দর ও শহরে ছড়িয়ে পড়ায় দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ফৌজদারি অপরাধ করা ব্যক্তিদের দলে ফিরিয়ে নিলে দলের ইমেজ ক্ষুন্ন হবে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীগণ।
নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন নেতা বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তারা কি চাঁদাবাজি বন্দ করেছে ? ইকবাল এখনো সিদ্ধিরগঞ্জের দণ্ডমুণন্ডের কর্তা ! এমন অন্যান্য বহিষ্কার হওয়া নেতারাও ইকবালের চাইতেও ভয়ংকর ভূমিকায় অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। যাদের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত জরুরী বলেও মনে করেন সাধারণ শান্তি প্রিয় বিএনপির সমর্থিত বিশাল জনগোষ্ঠী।









Discussion about this post