প্রতিপক্ষের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে কিশোর গ্যাং লিডার এবং পলাতক আজমেরী ওসমানের অন্যতম দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নাহিয়ান আজম ইভন (২৫) নিহত হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানা এলাকার ইসদাইর এলাকায় আপন তিন ভাই একত্রিত হয়ে ইভন নামের এই দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সাড়ে ১১ টার সময় অক্টো অফিস ওসমানী মাঠের পাশের সড়কে চেঙ্গিসের বাড়ির সমনে এ হত্যাকাণ্ড হয়।
জানা যায়, মটর সেইকেলে থাকা ইভনকে একা পেয়ে গতিরোধ করে পরিকল্পিতভাবে তিন ভাই সাইফুল ওরফে পাগলা সাইফুল, সফিকুল ও বাবু ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগহ্জ ৩০০ শয্যা খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আনার পর
ইবনের অবস্থা মারাত্মক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথিমধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইভন।
নিহত ইভনের যুবকের ভাই মাহিয়ান জানান, ফতুল্লার ওসমানী স্টেডিয়াম এলাকা থেকে ইভনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমার ভাই ইন্টারনেট ব্যবসা করতো। শফিকুল, সাইফুল ও বাবু আপন তিন ভাই এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এই তিন ভাই চাঁদাবাজি করতো। রমজানের সময় একটি ভবনে চাঁদা নিতে গেলে আমার ভাই (ইভন) তাদের বাধা দেয় এবং সে থেকেই ওদের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা শুরু হয়। ওই ঘটনার জের ধরে আজ (রোববার) ওরা তিনজনসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে।
ফতুল্লা থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ইভনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ গুলিস্তানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল করার অভিযোগে পল্টন থানায় ইভনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর ইয়াবা রাখার অভিযোগে দুই সহযোগীসহ ফতুল্লা থানা পুলিশ ইভনকে গ্রেফতার করেছিলো। ২০২২ সালের ১১ মার্চ ৮ সহযোগী ও দেশীয় অস্ত্রসহ ফের গ্রেফতার হয় এই ইভন। ২০২২ সালের ১৯ মে আবারও ফতুল্লা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৫ সহযোগীসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় এই দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ইভন।
এলাকাবাসী আরো জানায়, এমন দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ইভন কে হত্যা করতে এবার এলাকার আরেক সন্ত্রাসী গ্রুপের হোতা তিন ভাই সাইফুল ওরফে পাগলা সাইফুল, সফিকুল ও বাবু ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করায় এলাকায় ব্যাপক আতংকের সৃষ্টি হয়েছে ।
নিহত ইভন ফতুল্লার বাসিন্দা এম এ আজম বাবুর পুত্র। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইভন সবার বড়। ইভনের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার পর ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরীফুল ইসলাম জানান, নিহত ইভনের লাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইভনের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে। পরবর্তী তথ্য মোতাবেক ব্যবস্তা নেয়া হবে।









Discussion about this post