শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাশে রূপগঞ্জ থানা আর পূর্বপাড়ে এসিআই লবণ কারখানায। আর এই শীতলক্ষ্যা নদীতে অবিরাম সরাসরি বছরের পর বছর বর্জ্য ফেলছে এসিআই লবণ কারখানা। দীর্ঘদিন ওসমান পরিবারের সাথে নানাভাবে আতাঁত থাকার কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু চক্রের সকল সদস্যরা নিয়মিত মাসোয়ারা পেয়ে কোন অবস্থাতেই ব্যবস্থা না নিলেও এবার অজ্ঞাত কারণে টনক নড়েছে সরকারী এই সংস্থাটির।
এসিআই লবণ কারখানা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু চক্রের এমন ইদুৃর বিড়াল খেলায় ব্যাপক সমালোচনার সৃস্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জজুড়ে ।
এতা বছর পর এবারই প্রথম দূষণকারী এই প্রতিষ্ঠান এসিআই লবণ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানের এই সময় বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায়ে কারখানাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মঙ্গলখালী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হলে উৎসুক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এতোদিন ঠিকঠাক মতো মাসোয়ারা দিলেও গত বছর ৫ আগষ্টের পর থেকে মাসোয়ার প্রদানে টালকবাহানা করায় এবং পূর্বের চাইতে মাসোয়ারার দর আরো বৃদ্ধি করেতেই এই দুই লাখ টাকার জরিমানার নাটক করছে এই পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু চক্র । মূলতঃ পুরো এই চক্রই অসাধু। আর সাংবাদিকদের ডেকে আনা হয়েছে তাদের নাটক প্রচার করতে। এই জরিমানার নাটক প্রচার হলেই এসিআইয়ের মতো কারখানা গুলোই মতো সকল কারখানা আগেভাগেই যোগাযোগ করে তাদের চুক্তি ও মাসোয়ারা নতুন করে শুরু করবে।” এমন কঠোর ভাষায় মন্তব্যও করেছেন উপস্থিত অনেকেই।
এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলম। পুরানো নাটকের মতোই জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সরকারী অন্যান্য কর্মকর্তা, র্যাব, পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে এমন অভিযান চালিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু এই চক্র।

অভিযানের পর রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলম বলেন, এসিআই সল্ট কারখানাটি ইটিভি প্ল্যান থাকলেও তা ব্যবহার না করে সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলছে এই প্রতিষ্ঠানটি। দূষিত বর্জ্য রাস্তাঘাটের পাশেও ফেলছে এসিআই। এতে পরিবেশের ক্ষতি ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তারিকুল আলম আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র থাকলেও প্রায় ১১ বছর ধরে তা নবায়ন করেন নাই এসিআই কর্তৃপক্ষ। বর্জ্য অব্যবস্থাপনার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায়ে দুই লাখ টাকা জরিমানা হয় এবং তাৎক্ষণিক তা আদায় করা হয়েছে। এমন অসংখ্য অভিযোগের কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটকীয় এমন অভিযানকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর টিটু বড়ুয়াসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থেকে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, এই এসিআই লবণ কারখানার বিরুদ্ধে বিগত সময়েও লবন কেলেংকারীর গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও এই কারখানার বিরুদ্ধে কোন সংস্থাই কোন ব্যবস্থা নেয় নাই ওই ওসমানীয় ধমকের কারণে।









Discussion about this post