দেশে ব্যাপকভাবে নির্লজ্জদের বিষয়ে প্রবাদ রয়েছে, “গন্ডারকে সুড়সুড়ি দিলে নাকি তিনদিন পরে হাসে !”
এমন প্রবাদকেও এবার হাড় মানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত অপরাধী দারোয়ান থেকে কথিত শিল্পপতি নানা অপরাধের হোতা ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার তোফাজ্জল হোসেন তাপু। যার বাবা প্রয়াত আব্দুল মজিদ নিজেও ছিলেন মুজা ফ্যাক্টরীর দারোয়ান। সেই দারোয়ান তোফাজ্জল হোসেন তাপু এখন ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি।
যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবৎ ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, মদের ব্যবসা ও ক্নাবের ভিতরে রমরমা নারী ও জুয়ার আসর চালানোর জোড়ালো অভিযোগ রয়েছে।
এমন ঘটনায় পলাতক সেই শামীম ওসমানের অত্যান্ত আস্থাভাজন ক্যাশিয়ার তেলচোরা দেলুসহ কয়েকজন জুয়ারুদের মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছিলো সেই এসপি হারুন। নারায়ণগঞ্জে এসপি হারুন দায়িত্বপালনকালে অসংখ্য ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি করলেও ওসমানীয় সাম্রাজ্যের উপর কষাঘাত করায় জেলাবাসীর আস্থার স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন সেই হারুন। যিনি পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। গডফাদার শামীম ওসমানের শ্যালক টিটুর মাদকের আস্তানা পাগলার মেরী এন্ডারসনে হানা দিয়ে মামলা করার পর চুপসে গিয়ে শামীম ওসমান, সেলিম ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সকলেই সেই হারুনের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হন । ওই সময় গ্রেফতার হয়ে মোটা অংকের টাকায় জামিনে মুক্তি পেয়ে এসপি হারুনকে ম্যানেজ করতে সকল ধরণের পন্থা অবলম্বন করেছিলো এই কু্খ্যাত অপরাধী দারোয়ান ও দারোয়ানপুত্র তাপু।
সেই তাপু অর্থাৎ ইউনাইটেড ক্লাবের বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ বলেছেন, জুয়া ও মাদকের আখড়া ইউনাইটেড ক্লাব ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ।
মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদের সেই বক্তব্যে সাত দিন পর এবার গন্ডারের মতো সুরসুরি লেগেছে ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তাপুর গায়ে।
উল্লেখিত এমন কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছেন, স্থানীয়দের অনেকেই।
প্রতিবেদক নিজেই বিকেল ৪ টা থেকে ফতুল্লার পঞ্চবটি, শীষমহল, ডালডা মিল, ধর্মগঞ্জ এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় রাত আটটা পর্যন্ত অবস্থানকালে অনেকেই বলেছেন, “আজব এক এলাকা হচ্ছে এই পঞ্চবটি । এখানে তাপু – লিটন চক্র বিগত দিনে ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করে হাজারো যেমন অপকর্ম করতো ঠিক একইভাবে ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর কোন পরিবর্তন ঘটে নাই এই তাপু – লিটন চক্রের। তারা চাঁদাবাজি, জুয়া, মাদক, সরকারী ও সনাতন ধর্মালম্বীদের সম্পতি দখল করে ভূয়া কাগজ তৈরীর পর বিক্রি করছে প্রকাশ্যেই। তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহসও নাই কারোর ই।
হান্ড্রেড পার্সেন্ট চ্যালেঞ্জ (শতভাগ চ্যালেঞ্জ) ছুড়ে দিয়ে এলাকার অনেকেই আরো বলেছেন, “ইউনাইটেড ক্লাবে প্রতিরাতে জুয়া চলে এটা নিশ্চিত। তাপু ও লিটন সহ যারা এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা কতটা ,মিথ্যাবাদী তা আর নতুন করে এলাকাবাসীর কাছে প্রমাণ দেয়ার কিছু নাই । এবার সাধুদের বিষয়ে প্রমাণ করবেন আইনশৃংখলা বাহিনী। তেলচুরি করে কে ? চাঁদাবাজি করে করে ? ভূমিদস্যুতা করে কে ? বিশেষ পেশার কয়েকজন ( যারা ওসনমানীয় চিহ্নিত দালাল) নামধারী এই চক্রের অন্যতম সদস্য, এরা কারা ? ইত্যাদি ! ইত্যাদি !”
আজ শনিবার বেলা ১১ টায় ইউনাইটেড ক্লাব সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি হিসেবে তোফাজ্জল হোসেন তাপু লিখিত বক্তব্যে জানান, “ইউনাইটেড ক্লাব ৭০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। ইউনাইটেড ক্লাবে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ সদস্য হিসেবে রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে এই প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ সেবা গ্রহণ করে থাকে।
(তোফাজ্জল হোসেন তাপুর সংবাদ সম্মেলনের পর দারোয়ান থেকে কথিত শিল্পপতি তাপুর জুয়া, দেশে বিদেশে নারী কেলেংকারীসহ নানা অপরাধের বিশাল ফিরিস্তিও তুলে ধরেন ফতুল্লা ধর্মগঞ্জ এলাকার অনেকেই। যা যাচাই বাছার করে অচিরেই প্রকাশিত হবে।)









Discussion about this post