বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে কুখ্যাত অপরাধী শামীম ওসমান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদলের অত্যান্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন মেম্বারকে আব্দুর রশিদ (৫২) আবারো গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত বছর ২২ অক্টোবর রশিদ মেম্বারকে র্যাব গ্রেফতার করলেও প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে রশিদ মেম্বার জামিনে মুক্তি পেয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় বিতর্কের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে।
দীর্ঘ এক বছর বৈষম্য বিরোধী মামরাসহ প্রায় ২০ টি মামলার আসামী আওয়ামীলীগের দোসর রশিদ মেম্বার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসতেছিলেন।
দীর্ঘদিন পর এবার অজ্ঞাত কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইয়াসিন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বক্তাবলী ইউনিয়ন থেকে রশিদকে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ।
ফতুল্লা থানা পুলিশ জানায় রশিদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দুইটি হত্যা মামলা ও দুইটি হত্যা চেষ্টা মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজ, ভূমি দখল, টেন্ডারবাজি ও মারামারির ঘটনায় ১৪ টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।
রশিদ মেম্বারকে গ্রেপ্তারের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন থেকে শতাধিক লোক ফতুল্লা থানায় এসে থানা ঘেরাও করে। এসময় থানার সামগ্রিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে রশিদ মেম্বারের মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। পরবর্তীতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে রশিদ মেম্বারকে ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়কার চারটি মামলা রয়েছে রশিদ মেম্বারের বিরুদ্ধে। একটি মামলায় তার জামিন ছিল। আরো বাকি তিন মামলায় তার জামিন নেই। সেখান থেকে ইয়াসিন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এই ছাত্র হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি, হত্যাসহ ১৬ টি রয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়নি। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে যে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বুঝিয়ে বলার পর তারা সেখান থেকে সরে যায়।
এদিকে বিকেলে রশিদ মেম্বার কে আদালতে পাঠানোর পর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাইনুদ্দিন কাদের বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলায় রশিদ মেম্বার কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক মো. কাইউম খান।
এমন ঘটনায় আদালতের বারান্দায় থাকা অনেকেই বলেন, এই রশিদ মেম্বার এতোদিন কাকে কাকে টাকা দিয়ে এলাকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলো তাদেরকেও গ্রেফতার করা জরুরী । কারণ রশিদ মেম্বার একজন ধুরন্দ্ধর ব্যাক্তি। কাকে কি করে ম্যানেজ করতে হয় তা রশিদ মেম্বার খুব ভালো করে জানেন।









Discussion about this post