নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে শঙ্খ, ঘণ্টা আর উলু ধ্বনির মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে কুমারী রূপে দেবী দূর্গাকে অর্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই আজ কুমারী দেবীর আশীর্বাদ নিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার পূর্ণার্থী পূজায় অংশ নেন।
আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে পূজারী ব্রক্ষ্মচারী ঈশ্বর চৈতন্যের পরিচালনায় কুমারীর আসনে বসেছেন নগরীর দেওভোগ আখড়া এলাকার পাপ্পু ভট্টাচার্য্য ও স্বর্না ভট্টাচার্য্যের মেয়ে রাজশ্রী ভট্টাচার্য্য। আট বছর বয়সী রাজশ্রী মোদগুল্লো গোত্রের এবং নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।
রাজশ্রীকে দেবীরূপে পূজামণ্ডপে তুলে এনে ষোড়শ উপাচারে পূজা করা হয়। ঢাক-ঢোলের বাজনা ও মন্ত্র পাঠ করে দেবীর আসনে বসানো কুমারীকে পূজো দিয়ে বরণ করা হয় দেবীকে। দেবীর কাছে প্রার্থনা ও অঞ্জলি শেষে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
সনাতন ধর্মমতে, কুমারী হচ্ছে শুদ্ধতার প্রতীক। দেবী দুর্গার আরেক নাম কুমারী। এই পূজার মাধ্যমে স্বয়ং মা দুর্গা মানুষের ভেতরে বিকশিত হন। এবারের পূজোতে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
দেবীরূপে কুমারী রাজশ্রীর বাবা পাপ্পু ভট্টাচার্য্য জানান, ‘আমার মেয়েকে যে কুমারী রুপে বসাতে পেরেছি এজন্য আমি খুব আনন্দিত। আজকে আমি দেশবাসীসহ সকলের জন্য মঙ্গল প্রার্থনা করেছি।
শহরের রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী একনাথা নন্দ পূজার পরবর্তীতে বলেন, শাস্ত্র মতে প্রতিটি মেয়ের মাঝে দূর্গা মা বিরাজমান। এই বিশ্বাস ও অনুভূতি থেকেই কুমারী পূজা করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, মেয়েদের মধ্যে ভগবানকে দেখার চেষ্টা করো, যে সমাজে, দেশে ও পরিবারে মেয়েরা শান্তিতে নাই ওই পরিবার, দেশ শান্তিতে থাকতে পারে না। এজন্য মায়েদেরকে সম্মান জানাতে হবে।’









Discussion about this post