ক্রিকেটের ব্যাট হাতে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী একটি কমিউটার ট্রেনে হামলা চালিয়েছে একদল উশৃঙ্খল যুবক।
ওই হামলায় দেশের প্রথম নারী ট্রেনচালক সালমা খাতুনসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা ট্রেনের জানালায় ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আঘাত করে এবং পরে পাথর নিক্ষেপ করে ভাংচুর চালায়।
৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনটি গেন্ডারিয়ায় পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনচালক সালমা খাতুন লাইন ক্লিয়ার সিগনাল পেয়ে ট্রেনটি চালাতে শুরু করেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন যুবক হাতে ক্রিকেটের ব্যাট দিয়ে ট্রেনের ট্রেনের জানালায় আঘাত করতে শুরু করে।
এমন হামলার পরও ট্রেনচালক ও তার সহকর্মীরা জানালা খুলে তাদের থামাতে বললে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। কোন কথা না শুনে তারা জানালায় এলোপাতাড়ি ব্যাটের আঘাত করতে থাকে এবং জানালা বন্ধ করে দিলে বাইরে থেকে পাথর ছুঁড়তে থাকে। এতে ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে এবং কাচের টুকরো চালক ও তার সহকর্মীদের চোখ-মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এই হামলায় সহকারী চালকের হাত কেটে যায় এবং তার পেটে পাথরের আঘাত লাগে বলে জানা গেছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এমন হামলার পরে সালমা খাতুন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তারিত লিখে জানান, ‘ট্রেনের ইঞ্জিনের ওপর থাকা এক ছিনতাইকারী অপর এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। সেই ছিনতাইকারী ফের ইঞ্জিনের ওপরে উঠে যায়। হামলাকারী যুবকদের ধারণা ছিল, চালক ও রেলকর্মীরা হয়তো ছিনতাইকারীকে আশ্রয় দিয়েছেন কিংবা তাকে ধরার চেষ্টা করেন নাই- এই ভুল বোঝাবুঝি থেকেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায় যুবকরা।
সালমা খাতুন আরো বলেন, ‘এটাই আমাদের চাকরির বাস্তবতা। একজন নারী চালক হিসেবে এটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।’
এমন ঘটনার বিষয়ে গেন্ডারিয়া স্টেশন মাস্টার আলমগীর হোসেন জানান, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি, কিন্তু চালকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাই নাই।’
ঘটনার সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, ‘আমরা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জেনেছি। কেউ কমলাপুর রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করেন নাই। তবে কমলাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্তে চেষ্টা চলতেছে।”
এই ঘটনা আবারও রেলওয়ে নিরাপত্তা ও ট্রেনচালকদের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ ট্রেন চালক নিজেই। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে ছিনতাই, ভাঙচুর ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে চলছেই। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার হয় নাই।









Discussion about this post