ফতুল্লা প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চর কাশীপুর ও মধ্য নরসিংপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও বিতর্কিত ব্যক্তি জুয়েলের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদলের ঘনিষ্ঠ এই জুয়েল একসময় গার্মেন্টস শ্রমিক থাকলেও, রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ চাঁদাবাজির মাধ্যমে অল্প কয়েক বছরের মধ্যে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, জুয়েল ও তার দুই ভাই হালিম ও সোহেল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কেউ বাড়ি নির্মাণ করতে চাইলে বাধ্য করা হয় তাদের কাছ থেকেই নির্মাণ সামগ্রী যেমন—ইট, বালু, সিমেন্ট ইত্যাদি অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে। অন্য কোনো উৎস থেকে সামগ্রী আনলে শুরু হয় হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি ও কাজ বন্ধ করে দেওয়া।
অভিযোগ রয়েছে, জুয়েল ও তার ভাইরা এলাকায় নামমাত্র জমি কিনে ‘বিচার সালিশ’-এর নামে প্রহসন চালিয়ে বহু নিরীহ মানুষের সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। একসময় দিনমজুরের মতো জীবন কাটানো জুয়েল বর্তমানে ডুপ্লেক্স বাড়ি, গরুর ফার্ম, ড্রেজার ব্যবসা ও কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক।
এলাকাবাসীর দাবি, জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে বিরোধী হত্যা মামলা ও ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা হত্যার অভিযোগও রয়েছে, তবু তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং প্রভাব খাটাচ্ছেন।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তিনি আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চরাঞ্চল হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম, এই সুযোগেই তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, জুয়েল ও তার সহযোগীদের অবৈধ কার্যক্রম, চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।









Discussion about this post