নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ ॥
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে জামায়াতে ইসলামের নেতা মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের অভিজাত দুটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান — নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও ইউনাইটেড ক্লাব-এর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে।
এই অভিযোগ ঘিরে জেলার প্রশাসনিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বৈঠকের পর পরই আলোচিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একটি কক্ষ থেকে ১১৬ বোতল মদ উদ্ধার করে ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ সোলাইমানের নেতৃত্বে ক্লাব প্রশাসন। ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ক্লাবের ভেতরে মাদক মজুদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়।
তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একইভাবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফেও কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণের দৃশ্য চোখে পড়েনি।
পানি তৈরীর একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মদের কারখানা :
নারায়ণগঞ্জ শহরের একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু এই দুটি ক্লাব নয়, নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আড়ালেও চোলাই মদ তৈরির গোপন কারখানা চালু রয়েছে। বিশেষ করে শহরের সেন অ্যান্ড কোং নামের একটি লাইসেন্সধারী মদের দোকানের আড়ালে চোলাই মদ উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের দাবি, শহর ছাড়াও শহরের বাইরের প্রান্তিক অঞ্চলে একটি গোপন কারখানায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মদ উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট দোকানের কিছু কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অপরাধী গিয়াস উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় এই মাদক সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন রুবেল নামের এক কুখ্যাত অপরাধী। তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একাংশও তার প্রভাববলয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রমতে, জেলা পুলিশের কিছু সদস্য নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ করেন, যার কারণে মাদকবিরোধী অভিযান কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা মাদক ব্যবসাকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
সচেতন মহলের উদ্বেগ ও দাবি
জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, ও অভিভাবক সমাজ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসার এই ভয়াবহ বিস্তার তরুণ প্রজন্মকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে নারায়ণগঞ্জে সামাজিক অবক্ষয় ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
সচেতন মহল দাবি করেছে, জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই প্রভাবশালী মাদকচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
উপসংহার :
নারায়ণগঞ্জে সমাজের তথাকথিত অভিজাত শ্রেণি ও শিল্পমহলের কিছু অংশে মাদক ব্যবসার এই বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর হুমকি। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।









Discussion about this post