নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ফের উঠেছে পুরনো এক বিতর্কের ঝড়। ৭৫ সালের আগে আদমজী জুটমিলের সাড়ে নয় লাখ টাকা ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন পর নতুনভাবে আলোচনায় এসেছেন। এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী মাসুদুজ্জামান মাসুদের পাশে বসে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোয়।
আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ আলী নতুন করে আলোচনায় আসেন। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী মাসুদুজ্জামান মাসুদ, যিনি “মডেল মাসুদ” নামে পরিচিত।
পুরনো বিতর্কিত পরিচয়
মোহাম্মদ আলী ১৯৭৫ সালের পূর্বে আদমজী জুটমিলের শ্রমিকদের নয় লাখ টাকা ব্যাংক থেকে লুটের ঘটনায় অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পরে তিনি নিজেকে “কিং মেকার” পরিচয়ে রাজনীতিতে জড়ান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এই ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছর গডফাদার শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান অর্থাৎ ওসমানীয় দালালী করে নানাভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের চরম পতনের পর গত ২৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে চরম বিপাকে পারেন সেই নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলী।
‘এরপর নানাভাবে ক্ষমা চেয়ে কিছুদিন নিশ্চুপ থাকলেও আবার একজন উপদেষ্টার স্বামীকে ম্যানেজ করে লুটপাট করতে মাঠ দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলী। এবার তিনি আরেক ব্যাংক লুটেরা হিসেবে পরিচিত মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদকে বগলতলায় রেখে ওসমানীয় রাজনৈতিক স্বার্থসহ নিজ স্বার্থ হাসিল করতে চালাচ্ছেন নানা কৌশল। এতো দেখতেছি চোরে চোরে মাসতুতো ভাই !’
আজ সোমবার ১৩ অক্টোবর এমন মন্তব্য করেছেন দুই জন মুক্তিযোদ্ধা।
আনিসুল হকের সহযোগী মাসুদ
অন্যদিকে, মাসুদুজ্জামান মাসুদের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সিটিজেন ব্যাংকের পরিচালক পদে থেকে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
“আমার বাজান মাসুদ”
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, “মাসুদুজ্জামান আমার বাজান। আমি তাকে বাজান বলেই ডাকি সবসময়। আপনারা যারা মুক্তিযোদ্ধা ভাই আছেন, সবাই চান এলাকার লোক প্রার্থী হোক। এলাকার লোক তো মাসুদ ছাড়া আর কেউ নাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, মাসুদুজ্জামান “মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক” এবং “মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের সন্তান”।
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন : বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূর আলম মিয়া, বন্দর থানা ইউনিট কমান্ডার জসিম উদ্দিন তোতা, সদর উপজেলা আহ্বায়ক নূর হোসেন মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, প্রেস ক্লাব সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম সরদার, নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক এবং “আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী” সংগঠনের সভাপতি নূরুদ্দীন আহমেদসহ আরও অনেকে।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাসুদ-মোহাম্মদ আলী জুটি নতুন এক প্রভাবশালী মহলের উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো বিতর্কিত চরিত্রদের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রত্যাবর্তন শুধু নির্বাচনী প্রতিযোগিতা নয়, বরং জেলার রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
আদমজী ব্যাংক ডাকাতির হোতা থেকে রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসা মোহাম্মদ আলীর এই উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে— “অতীতের অপরাধের দায় কি রাজনীতির মঞ্চে ভুলে যাওয়া যায় ?”









Discussion about this post