“আমার বন্ডের ব্যবসায় যদি কেউ হাত দেয় তবে সেই হাত আমি কেটে ফেলবো। আমাকে নিয়ে রাজনীতি করবে নারায়ণগঞ্জ শহরে এমন কোন মাইকে লাল জন্ম হয় নাই, আমার পলিথিনের গাড়ির ছবি তুইলা যারা সংবাদ করছে আমার ব্যবসার পিছনে যারা লাগছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ৫০ লাখ, ১ কোটি টাকা খরচা করব দেখে নেব কার এত বড় সাহস হইছে।”
এভাবেই আজ বুধবার (১৫ই অক্টোবর) বিকেলে শহরের দুই নাম্বার গেইট এলাকার নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসায়ীদের মূল হোতা বাবুল আর পার্শ্ববর্তী দোকানদার জালাদের দোকানের সামনে দাড়িয়ে গালিগালাজসহ উল্লেখিত ভাষায় হুমকি দেয়।
বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে ।
সম্প্রতি রাজধানীর নিষিদ্ধ পলিথিনের গডফাদার সোহেলের সাথে সিন্ডিকেট করে নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসায়ী বাবুলের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে পুরো নারায়ণগঞ্জের সিন্ডিকেট তৈরী করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ।
এমন সংবাদ প্রকাশের ঘটনার জের ধরেই গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে বাবুল। এর পূর্বেও অসংখ্যবার এবং নারী কেলেংকারীসহ নানা ঘটনায় ২ নং রেলগেট এলাকায় নানাভাবে প্রায়ই হুমকি দেয় বাবুল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ছাড়াও গত ১৩ অক্টোবর (সোমবার), গত ১১ অক্টোবর (শনিবার) এবং গত ১০ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নং রেল গেইট এলাকায় এবং রহমতুল্লাহ ইন্সটিটিউটের সামনে একেবারে প্রকাশ্যেই বাবুল তার নিজ দোকানে বসেই কন্টেইনার ভর্তি দেশের বাজারে নিষিদ্ধ বিদেশ থেকে আমদানী করা শুল্কমুক্ত বন্ডের পলিথিনের দানা এবং পলিথিন গুদামজাত করে।
প্রকাশ্যে এমন নিষিদ্ধ পলিথিন এবং দানার বস্তা গুদামঘরে রাখলেও কেউ টুশব্দ করার সাহস করে না।
এমন ঘটনায় একাধিক সূত্র জানায়, বাবুল নিয়মিত মাসোহারা প্রদান করে কাস্টমস, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। ফলে প্রকাশ্যে কন্টেইনারভর্তি নিষিদ্ধ পলিথিন দানা নারায়ণগঞ্জে আনলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
তার নিষিদ্ধ এমন ব্যবসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ম্যানেজ থাকায় বাবুল নারী কেলেংকারীসহ নানা অপরাধের সাথে যুক্ত থাকলেও তার টিকিটিও স্পর্শ করে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সংস্থা।
জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিনই বাবুলের নিয়ন্ত্রণাধীন চক্র বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন দানা আমদানি করছে। পরে সেই দানা থেকে তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, মোড়ক ও বিভিন্ন পলিথিন পণ্য—যা শহরজুড়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে এই সিন্ডিকেটকে পুঁজি জোগাচ্ছে রাজধানীর পাইকারি ব্যবসায়ী সোহেল। বাবুলের সঙ্গে তার রয়েছে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক। তারা যৌথভাবে বিভিন্ন আমদানিকারকের নামে কাগজপত্র সাজিয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন দানা আমদানি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার একজন বন্ডের নিষিদ্ধ পলিথিনের দানা ব্যবসায়ী বলেন, বাবুল ও তার সিন্ডিকেট যে পরিমাণ কন্টেইনার ভর্তি করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় দানা ও পলিথিন গুদামজাত করেন তাতে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেন। আর ওই রাজস্ব ফাঁকির টাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সকল সংস্থার অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ, নব্য রাজনীতিবিদ নামধারীদের বিশাল মাসোয়ারাসহ স্থানীয় কিছু বিশেষ পেশার অসাধু কয়েকজনকে ম্যানেজ করেই রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছে বাবুল ও সোহেল সিন্ডিকেট।
আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পলিথিনের গডফাদার বাবুলের এমন কান্ডে উপস্থিত অনেকেই বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাবুল এক নারী কলেংকারী করে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজের পর ঘটনা ধামাচাপা দেয় । তেমনি এই বন্ডের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাবুল মরন কামড় দিবে। বাবুলের নিষিদ্ধ পলিথিনের টাকায় যা ইচ্ছে তা করতেও পারে। তাই সকল ব্যবসায়ীদের সাবধান হওয়া এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিচার দাবী করা জরুরী হয়ে পরেছে।









Discussion about this post