আদালত প্রতিবেদক :
সোনারগাঁয়ে চাঞ্চল্যকর সায়মা আক্তার মীম (২০) হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তার কথিত স্বামী রায়হান।
জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জানান, স্ত্রী মীম তাকে অন্য বউকে ডিভোর্স দিতে ও পুনরায় বিয়ে করতে চাপ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করেন।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুর মোহসিনের আদালতের খাস কামড়ায় রায়হান জবানবন্দি প্রদান করেন।
১৬৪ ধারায় এমন জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. কাইয়ুম খান।
তিনি জানান, জবানবন্দি শেষে আদালত রায়হানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে নিখোঁজের চার দিন পর মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের কাইকারটেক ব্রিজসংলগ্ন ঝোপ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো বস্তাবন্দি অবস্থায় মীমের লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, লাশ উদ্ধারের এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বজনরা এসে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লার রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লার রায়হানের সঙ্গে মীমের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা প্রায় এক বছর ধরে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকার আমতলায় ফিরোজ মিয়ার বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন। এ সময় মীম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু দুই মাস আগে রায়হান আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করলে মীম বিষয়টি জানতে পারেন এবং রায়হানকে ওই স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে তাকে (মীমকে) বিয়ে করতে চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চরমে পৌঁছায়।
পরবর্তীতে রায়হান পরিকল্পিতভাবে গত ১০ অক্টোবর রাতে মীমকে কাইকারটেক ব্রিজসংলগ্ন বালুর মাঠে নিয়ে যান। সেখানে হিজাব দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে হাত-পা স্কচটেপে পেঁচিয়ে পলিথিনে মুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন ঝোপে ফেলে দেন।
নিহত সায়মা আক্তার মীম পাবনা জেলার সুজানগর থানার দয়ালনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, এবং রায়হানের জবানবন্দিতে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত উঠে এসেছে।









Discussion about this post