নিজস্ব প্রতিবেদক || নারায়ণগঞ্জ ||
শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন ছাত্রদলের এক নেতা। দীর্ঘ কয়েক মাস আগে দায়ের করা মামলাটি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় ২৪৮ জনকে আসামি করে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রতন মিয়া। তিনি উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের রহমান জিকুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তবে মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই বাদী রতন মিয়া একাধিক নোটারির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিভিন্ন আসামির নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেন। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ৩০ নেতাকর্মীর নাম অব্যাহতির জন্য নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আবেদন করেছেন।
হলফনামায় রতন উল্লেখ করেছেন, “সম্পূর্ণ ভুল বুঝাবুঝির কারণে আসামিদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ঘটনায় জড়িত নন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীও নন।” তিনি আরও অনুরোধ করেন, “এসব আসামিকে যেন পুলিশ গ্রেফতার বা হয়রানি না করে।”
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, “ভুলবশত” ৩০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাখ্যা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, মামলার বাদী হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আসামি করেছিলেন, পরে অর্থের বিনিময়ে বা রাজনৈতিক চাপে তাদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
নোটারি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ নভেম্বর এক হলফনামায় বাদী তমাল মোল্লা, হিমেল মেল্লা, মামুন মোল্লা ও সালামের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেন। এরপর ৮ অক্টোবর ও ২৬ অক্টোবরের নোটারিতে আওয়ামী লীগ নেতা লাক মিয়া, আক্তারুজ্জামান সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, সবুজ মোল্লা, বাদশা মিয়া, রাকিব মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল শাহরিয়ার হীরা, আজমীর ভূঁইয়া, সজিব, নুরুজ্জামান, মারুফ, রাজিব মিয়া, মনির কমিশনারসহ আরও অনেকের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেন।
পর্যায়ক্রমে আরও একাধিক নোটারির মাধ্যমে শাকিল, সুমন, মাসুদ, বাদল, আল আমিন, আ. আজিজ, রুহুল আমিন, শাহিন, হেলাল, শফিকুল, সেলিম মেম্বার ও নজরুলের নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুরু থেকেই মামলাটিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কিনা, নোটারি প্রক্রিয়ার বিষয়টি তা আরও স্পষ্ট করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী রতন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের রহমান জিকুর ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া ২৪৮ আসামির মামলায় বাদী নিজেই ৩০ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতার নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন। এতে মামলাটির উদ্দেশ্য ও ন্যায্যতা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে।









Discussion about this post