📰 প্রতিবেদক : তাহের হোসেন
সূত্র : আপিল বিভাগ, প্রথম আলো, আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবী
চাঞ্চল্যকর নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডিতদের আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আসামিপক্ষের সময় চাওয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী (অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড) আব্দুল হাই। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল শুনানির দিন ধার্যের আবেদন করা হলেও, আসামিপক্ষ থেকে সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার জন্য ছয় সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। পরে আদালত চার সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক সাংবাদিকদের বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে। আসামিপক্ষ এখনো জমা দেয়নি। আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন, এরপর শুনানি হবে।”
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন পাওয়া যায় আরও একটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম।
ঘটনার পর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। একই থানায় আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে র্যাব-১১–এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং র্যাবের আরও ৯ জন সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেন আদালত।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর প্রকাশিত হয় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়। এরপর দণ্ডিত আসামিরা ২০১৯ সালে আপিল ও লিভ টু আপিল করেন।
আজ ‘তারেক সাঈদ মোহাম্মদ বনাম রাষ্ট্র’ শিরোনামের আপিলটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। চার সপ্তাহ পর এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।









Discussion about this post