আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেন।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রার্থিতা
ঘোষণায় দেখা যায়, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী–০১, বগুড়া–০৭ এবং দিনাজপুর–০৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া–০৬ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও–০১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে প্রার্থী তালিকা
নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
– নারায়ণগঞ্জ–১ (রূপগঞ্জ): দিপু ভূইয়া
– নারায়ণগঞ্জ–২ (আড়াইহাজার): নজরুল ইসলাম
– নারায়ণগঞ্জ–৩ (সোনারগাঁ): মাজহারুল ইসলাম মান্নান
– নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ): এখনো নির্ধারিত হয়নি
– নারায়ণগঞ্জ–৫ (শহর ও বন্দর): মাসুদুজ্জামান
এই তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসন নিয়ে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রার্থী নির্ধারণে তারেক রহমানের সভাপতিত্ব
প্রার্থী ঘোষণা করার আগে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের পরবর্তী করণীয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শরিকদের জন্য আসন ছাড়ার ইঙ্গিত
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “যেসব আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে। এছাড়া জোটের শরিকদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে।”
উপস্থিত ছিলেন যারা
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
বিএনপির এই প্রার্থী ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত বিএনপির নির্বাচনী কৌশল ও শক্তি প্রদর্শনের অংশ, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।









Discussion about this post