সোনারগাঁও প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে পুরাতন মালপত্র বিক্রির সময় শিক্ষকসহ দুজনকে এলাকাবাসী আটক করেছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।
এসময় স্থানীয়রা দুইটি পিকআপভ্যান ভর্তি শতাধিক বেঞ্চ, ফ্যান ও রড জব্দ করেন। আটক হন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল বাতেন ও অফিস সহায়ক সুমন। খবর পেয়ে তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালপত্রগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মাসুদের তত্ত্বাবধানে রাখে।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূঁইয়ার যোগসাজশে প্রায় ১০ লাখ টাকার পুরাতন মালপত্র মাত্র ৩ লাখ টাকায় গোপনে বিক্রি করা হয়। ওই মালপত্র নানাখী এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছে বিক্রি করার সময় এলাকাবাসী হাতে-নাতে আটক করেন।
একপর্যায়ে শিক্ষক আব্দুল বাতেন ও অফিস সহায়ক সুমন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মালপত্র উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও অভিযোগ
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই লাখ টাকার বেশি মূল্যের যেকোনো মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দরপত্র আহ্বান না করেই রাতের অন্ধকারে বিক্রির চেষ্টা করে।
পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. তকির আহম্মেদ বলেন, “শনিবার স্কুল বন্ধের দিন ছিল। রাতের অন্ধকারে বেঞ্চ, ফ্যান ও রড ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। জিজ্ঞাসা করলে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।”
ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মাসুদ বলেন, “বিক্রির কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কমিশন নিয়ে মাত্র ৩ লাখ টাকায় প্রায় ১০ লাখ টাকার মাল বিক্রি করেছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশন করে মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে। টাকা স্কুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে দরপত্র ছাড়াই বিক্রি করা সঠিক হয়নি।”
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, “নতুন ভবন নির্মাণের পর পুরোনো বেঞ্চ ও ফ্যান বিক্রির জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়নি, এটা আমাদের ত্রুটি।”
শিক্ষা অফিসের অবস্থান
সোনারগাঁ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, বিক্রির প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এলাকাবাসী বলছেন, এটি শুধু অনিয়ম নয়, বরং সরকারি সম্পদ আত্মসাতেরও অভিযোগ হতে পারে। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কাছে তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
রাতের আঁধারে স্কুলের মালপত্র বিক্রি, দুইজন আটক, স্থানীয়দের বিক্ষোভ। অভিযোগ—১০ লাখ টাকার মালপত্র বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩ লাখ টাকায়, কোনো দরপত্র ছাড়াই। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষা অফিস।









Discussion about this post