আড়াইহাজার প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দা, বটি, টেটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ সময় পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে তিনটি বিস্ফোরিত হয় এবং দুইটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে আছমা আক্তার (৪৭), গিয়াসউদ্দিন মিয়া (৪২) ও হাবিবুল্লাহ মিয়া (৫৫)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পর হামলাকারীরা স্থানীয় রতন মোল্লার মুদি দোকানসহ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। দোকান মালিক রতন মোল্লা জানান, হামলাকারীরা তাঁর দোকান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন লকডাউনকে কেন্দ্র করে ঢাকা যাওয়ার সময় এলাকায় জয়বাংলা স্লোগান দিলে আমাদের কর্মীরা বাধা দিলে তারা হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।”
অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম বলেন, “আমি কয়েক মাস যাবৎ বাড়িছাড়া। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









Discussion about this post