নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ, ১৪ নভেম্বর
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্যের জেরে সংঘটিত জোড়া খুনের মামলার অন্যতম প্রধান আসামি অহিদ (৩৫)–কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–১১।
আজ শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ভোররাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে অহিদকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাব–১১ এর কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাইম উল হক।
পুরনো বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, জমি দখল–দারিত্বের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১০ নভেম্বর ভোরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরডুমুরিয়া গ্রামে সংঘর্ষের সূচনা হয়। ওইদিন অহিদসহ শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।
প্রথমে গুলি করে হত্যা করা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ মীর–কে। সকালে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলি তার বুকে লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে রায়হান খাঁর বাড়ির দিকে অগ্রসর হয়। বাড়ির দরজার সামনে অবস্থান করা রায়হান খাঁ–ও গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন দুপুরে তিনি মারা যান।
দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি দ্রুতই গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নেয়।
র্যাবের অভিযান ও গ্রেপ্তার
সংঘর্ষের পরপরই র্যাব–১১ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ টিম সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অহিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অহিদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বড় মোল্লাকান্দি গ্রামে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় অহিদ বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে অবস্থান বদল করছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাইম উল হক বলেন, “জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে আমরা শুরু থেকেই তৎপর ছিলাম। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অহিদকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব অতিরিক্ত টহল চালাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, জোড়া খুনে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।









Discussion about this post