নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় মাদক লেনদেন দেখে ফেলায় নাহিদুর রহমান পারভেজ (৩০) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি ও রামদা দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে।
আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বেগম রোকেয়া স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভেজ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত পারভেজ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পেশায় মুদি ব্যবসায়ী। তার ছোট একটি কনফেকশনারি দোকান ও ইন্টারনেট ব্যবসাও রয়েছে।
ঘটনার পর মাসদাইর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা, পুরনো আড্ডা বলছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসদাইরের বেগম রোকেয়া স্কুলের সামনের গলিটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির আড্ডা হিসেবে পরিচিত। বুইট্টা মাসুদ, গিইট্টু রিপন ও জাহিদ নামের তিনজন সেখানে নিয়মিত মাদক কেনাবেচা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে তারা তিনজন মাদক লেনদেনে ব্যস্ত ছিল। ঠিক সেই সময় পারভেজ ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দৃশ্যটি চোখে পড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজন প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি শরীরে না লাগলেও পরে রামদা ও লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায় ও পেটায়।
‘তাকিয়ে আছস কেন ?’— এরপরই শুরু হয় হামলা
ঢাকা মেডিক্যালে শয্যাশায়ী পারভেজ বলেন,
“মাসদাইর বাজার থেকে ফিরছিলাম। রোকেয়া স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে একজনকে দেখছিলাম। হঠাৎ বুইট্টা মাসুদ এসে বলে— তাকিয়ে আছস কেন ?—এ কথা বলেই পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এরপর রিপন দৌড়ে এসে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকে। আরেকজন জাহিদ লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। মাসুদ আবার গুলি ছোড়ে। আমি দৌড়ে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শুনেছি এই গলিতে ওরা মাদক ব্যবসা করে। তাই মনে করেছে আমি তাদের ছবি বা কিছু দেখছি। আসলে আমি ওই সময়ে অন্য একজনকে দেখছিলাম। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”
‘আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে চেয়েছে’— পরিবারের অভিযোগ
পারভেজের মা মোকারিমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওরা আমার ছেলেকে প্রকাশ্য দিবালোকে মেরে ফেলতে চেয়েছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
তার বাবা ফিরোজ মাস্টার জানান,
“রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাকে খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরে দ্রুত ঢামেকে পাঠানোর পরামর্শ দেন। মাথা ও হাতে গভীর জখম রয়েছে।”
পুলিশ বলছে— আসামিরা অপরাধী চক্রের সদস্য
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান বলেন,
“আমি নিজে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি। আসামি জাহিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের ওপর হামলার মামলা রয়েছে। ঘটনার সব তথ্য যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা বলছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আবারও মাদকচক্রের দাপট ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আর মাদকের এই স্পষ্ট থেকে পুলিশের মধ্যমসারীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশের চক্র নিয়মিত মাসোয়ারা গ্রহণ করে। এই স্পষ্ট থেকে পুলিশের মাসোয়ারা নিয়ে ক্যাশিয়ার নিয়োগ রয়েছে কর্মকর্তাদের নির্দেশে।









Discussion about this post