নিজস্ব প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাছিমপুর এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত রাকিব ওরফে গুই রাকিবকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। সোমবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ প্রায় ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার করে ত্রাস সৃষ্টি করছিলেন।
ব্যবসায়ীকে গুলি করে আলোচনায় আসে
স্থানীয় ব্যবসায়ী লোকমান হোসেনকে চাঁদার দাবিতে গুলি করে রাকিব সম্প্রতি আবার আলোচনায় আসে। ঘটনায় গুরুতর আহত লোকমানের পরিবার অভিযোগ করে—রাকিব ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে, আংশিক টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা না পেয়ে তাকে গুলি করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একাধিকবার গ্রেফতার হলেও থেকে যায় কার্যক্রম
এটি রাকিবের প্রথম গ্রেফতার নয়। ২০১৯ সালেও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করে গ্রেফতার করেছিল। সে সময়ও তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের একাধিক মামলা ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ—গ্রেফতার হলেও বিভিন্ন কারণে প্রতিবারই তিনি পুনরায় বেরিয়ে এসে আগের মতোই সন্ত্রাসী তৎপরতায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাকিব দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জের বিভিন্ন বাজার, পরিবহন ও শিল্পাঞ্চলীয় এলাকায় নিয়মিত চাঁদা তুলতেন। তার নামে চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মারধর, অপহরণ কিংবা হামলার শিকার হতে হতো। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বিরোধও ছিল।
র্যাবের দাবি—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হবে স্বস্তিদায়ক
র্যাব-১১–এর কর্মকর্তারা জানান, “রাকিবকে গ্রেফতারের ফলে রূপগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আসবে। তার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে একে একে আরও অভিযান চালানো হবে।”
স্থানীয়দের স্বস্তি
গুই রাকিব গ্রেফতারের পর এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য—দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও আতঙ্ক এবার কিছুটা হলেও কমবে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
রাকিবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।









Discussion about this post