মহানগর প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা–সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ আলম।
ব্যবসা রক্ষা ও মামলা থেকে বাঁচতেই যিনি ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থানা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন—এখন ফের এমপি হতে দৃশ্যত মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
দলে ত্যাগ, সুবিধা গ্রহণ—এখন আবার মনোনয়নের দৌড়
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসা ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই শাহ আলম সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
এমনকি অভিযোগ রয়েছে—তিনি তার অনুসারী নেতাকর্মীদেরও আন্দোলন–সংগ্রামে না যাওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে সরকারের সঙ্গে তার কোনও বিরোধ তৈরি না হয়।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আবার মাঠে নামার চেষ্টা করছেন তিনি। কয়েকটি ইউনিয়নে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বল্প প্রচারভিযান, এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা প্রচারণা দেখিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজের সক্রিয়তা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ।
২০০৮ সালের ইতিহাস আবার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মাত্র ২১০০ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন শাহ আলম।
সেই স্মৃতি নিয়েই এবারও তিনি বিএনপির টিকিট পাওয়ার জন্য শক্ত লবিং শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে সাধারণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের আপত্তি—
“দলের দুঃসময়ে পাশে না থাকা, সুবিধাবাদী ও ব্যবসাবান্ধব Shah Alam যেন টাকার জোরে মনোনয়ন না পান।”
১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম—দলের ভরসা চার ত্যাগী নেতা
দলীয় কর্মকাণ্ডে ত্যাগ ও সংগ্রামের ভিত্তিতে কর্মীরা চারজন নেতাকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করছেন—
আলহাজ্ব মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সাবেক এমপি, সাবেক জেলা সভাপতি
মাশুকুল ইসলাম রাজিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক
মশিউর রহমান রনি, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব
শহিদুল ইসলাম টিটু, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি
গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে হামলা-মামলা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস মোকাবিলা করেও এ চারজন মাঠে ছিলেন বলেই সাধারণ নেতাদের দাবি।
তাদের মতে,
“যারা দুঃসময়ে দলকে আগলে রেখেছেন, মনোনয়ন তাদের মধ্য থেকেই দেওয়া উচিত।”
শাহ আলমের বিরুদ্ধে সুবিধাবাদীতার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় ত্যাগীদের অভিযোগগুলো এমন—
আওয়ামী লীগের চাপ ও মামলার ভয়ে পদত্যাগ করেছিলেন শাহ আলম
সুবিধা নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যবসায়িক সম্পর্ক মজবুত করেছিলেন
আন্দোলনের সময়ে নিজের লোকজনকে পর্যন্ত রাস্তায় নামতে দেননি
সাম্প্রতিক মেডিকেল ক্যাম্প ও গণসংযোগ ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভ্রান্ত করার কৌশল
তার রাজনৈতিক আনুগত্য সবসময় নির্বাচনী মৌসুমে ফিরে আসে
দলীয় একটি শীর্ষ সূত্র মন্তব্য করে—
“যিনি ১৫ মাসের আন্দোলনে একদিনও রাজপথে ছিলেন না, তিনি এখন হঠাৎ সক্রিয় হয়ে মনোনয়ন চাইছেন—এটি তৃণমূল কখনোই ভালোভাবে নেবে না।”
মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলের দৃঢ় অবস্থান
সাধারণ নেতাকর্মীদের দাবি—“নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন যেন ত্যাগী গিয়াস উদ্দিন, রাজিব, রনি বা টিটুর মধ্য থেকে কাউকে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বদলাতে সুবিধাবাদীরা আবার দলে ঢুকতে চাইছে—দল যেন টাকার কাছে নতি স্বীকার না করে।”
পরিশেষে
নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের রাজনীতিতে এখন মূল লড়াই সুবিধাবাদ বনাম ত্যাগের।
এমপি হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় শাহ আলমের মাঠে নামা অনেকেই দেখছেন কৌশলগত প্রত্যাবর্তন হিসেবে।
তবে তৃণমূলের স্পষ্ট অবস্থান—দলের দুঃসময়ের কর্মীরাই এবার মনোনয়নের দাবি রাখেন।
বিএনপির হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন, নাকি সুবিধাবাদীর প্রভাবেই মনোনয়ন যাবে—সেটিই এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।









Discussion about this post