নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকায় ভূমিকম্পের সময় ট্রান্সফরমারের তারে ঘর্ষণ থেকে সৃষ্ট ফুলকির কারণে একটি তুলা প্রসেসিং কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
কীভাবে আগুনের সূত্রপাত
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরপরই কাছের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি দুলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে কারখানার দেয়ালে আঘাত করে। একই সময়ে ট্রান্সফরমারের এক তারের সঙ্গে অন্য তারের ঘর্ষণে সৃষ্ট আগুনের ফুলকি কারখানার ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানার ভেতরে থাকা হাইড্রলিক প্রেস মেশিনের তেলের ড্রাম বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।
তিন ঘণ্টা লড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ
খবর পেয়ে বন্দর ও সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ওসমান গণি বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আগুন ছিল অত্যন্ত তীব্র, তবে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।”
মালিকের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটি ‘জুলহাস মিয়ার তুলা গাইট বাঁধার কারখানা’ নামে এলাকায় পরিচিত।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক জুলহাস মিয়া বলেন, “ভূমিকম্পের সময় শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। আচমকাই বৈদ্যুতিক তারের ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি পড়ে তুলার ওপর। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো কারখানা আগুনে ঘিরে যায়। প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।”
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্ত
ঘটনার পর বন্দর থানার পুলিশ এবং ধামগড় ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন,
“প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকেই আগুন লাগার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”
উপসংহার
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুহূর্তেই বড় ধরনের শিল্প দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে—বন্দর উপজেলার এই ঘটনা তারই উদাহরণ। সময়মতো ফায়ার সার্ভিসের পদক্ষেপে বড় ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি এড়ানো গেছে।









Discussion about this post