নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডেমরা ব্রিজ (সুলতানা কামাল সেতু) ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সকাল থেকে সেতুটিতে সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে এখন শুধু পথচারীরা হেঁটে পারাপার হতে পারছেন।
যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপারের জন্য নৌকা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকেই সেতুর উভয় প্রান্তে বাধা স্থাপন করে মোটরযান চলাচল বন্ধ করা হয়।
এতে ডেমরা–নারায়ণগঞ্জ–রূপগঞ্জ এলাকার একাধিক রোড নেটওয়ার্কে চাপ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে থাকা পরিবারগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেতুর ওপর কম্পন, স্ল্যাব ধসে যাওয়া ও ভারী যানবাহন চলাচলে নড়াচড়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়ে আসছিলেন তারা। কয়েকদিন ধরে এসব সমস্যার তীব্রতা আরও বেড়ে গেলে আজ সকালে সেতু বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
এ অবস্থায় প্রশাসন বিকল্প পথ হিসেবে মুরাপাড়া হয়ে গাউছিয়া রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ওই পথ দিয়ে টেম্পু, সিএনজি ও অন্য ছোট যানবাহন চলাচল করছে। তবে যাত্রীরা বলছেন, রাস্তাটি সরু হওয়ায় বিকল্প রুটেও চাপ বেড়ে গেছে।
ডেমরা এলাকার ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, “সেতু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নদী পারাপারের জন্য নৌকা ধরতে হচ্ছে। এতে সময়ও বেশি লাগছে, ঝুঁকিও রয়েছে।”
একই অভিযোগ একাধিক যাত্রীর। তারা জানান, সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হওয়ায় হঠাৎ বন্ধে পুরো এলাকাজুড়ে বিপর্যস্ত অবস্থা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সেতুর বৈকল্য চিহ্নিত করতে জরুরি পরিদর্শন চলছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না হওয়া পর্যন্ত যানচলাচল পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে সেতুর বিভিন্ন অংশে তাৎক্ষণিক সংস্কার কার্যক্রমও শুরু করা হবে।
ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “সেতুর বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় যান চলাচল চালু রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে সেতু বন্ধ রাখা হয়েছে।”
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ দ্রুত সেতুটির মেরামত ও নিরাপদভাবে চলাচল নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন।
উপসংহার :
ডেমরা ব্রিজে যান চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষকে বিকল্প রুট এবং নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সেতুর নিরাপত্তা পরীক্ষা ও সংস্কার কার্যক্রম না নিলে দীর্ঘদিন ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।









Discussion about this post