নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে তিন সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় দ্বিতীয় আসামি সায়েদাবাদী শহিদ (৫৫)–কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) ভোরে ফতুল্লার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু রায়হান জানান, “ভোরে সায়েদাবাদী শহিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
অসহায় পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে এসে হামলার শিকার সাংবাদিকরা
গত ৫ নভেম্বর বিকেলে ফতুল্লার গিরিধারা বউবাজার এলাকায় একটি অসহায় পরিবারের জমি দখল–সংক্রান্ত অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরির জন্য ঘটনাস্থলে যান জাগো নিউজের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি মো. আকাশ, নিউজ নারায়ণগঞ্জ-এর ক্যামেরাপার্সন আবদুল্লাহ আল মামুন এবং আরজু।
সেখানে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় ভূমিদস্যু কৃষকদল নেতা শাহাদাত ও সায়েদাবাদী শহিদ। তিন সাংবাদিককে মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করা হয়।
এমনকি হামলার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা একটি কারখানায় আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সহযোগী গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করলে মো. আকাশ বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরদিনই পুলিশ প্রথম আসামি শাহাদাতকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
প্রেক্ষাপট ও প্রতিবন্ধকতা
নারায়ণগঞ্জে বিগত কয়েক বছরে ভূমিদস্যু চক্রের দৌরাত্ম্য এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বাধা সৃষ্টি, ভয়ভীতি ও হামলার ঘটনা প্রায়ই সামনে আসছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাটিও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি চক্রের ভূমিদখল ব্যবসা এবং তাদের ভয়ঙ্কর প্রভাবের চিত্র তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পরবর্তী ধাপ
মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিন সাংবাদিকের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার পেছনে থাকা পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।









Discussion about this post