নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চবটী–মুক্তারপুর উড়ালসড়কের পাইলিংয়ের সময় আবারও তিতাস গ্যাসের প্রধান পাইপলাইন ফেটে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর,) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এনায়েতনগর ইউনিয়নের শাসনগাঁও এলাকায় ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শোঁ–শোঁ শব্দে গ্যাস বের হতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।
তিতাস কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল অঞ্চল থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। আজ রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৬ ঘণ্টা পার হলেও পাইপলাইনটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘসময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় পুরো নারায়ণগঞ্জজুড়ে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ঘরোয়া চুলায় আগুন নেই, হোটেল–রেস্টুরেন্টে জনস্রোত
গ্যাস না থাকায় নগরীর হাজারো পরিবার রান্না করতে না পেরে চরম সমস্যায় পড়ে। কেউ বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার বা কাঠের চুলায় রান্না করছেন, আবার অনেকে বাসা থেকে বেরিয়ে হোটেল–রেস্টুরেন্টে ভিড় করছেন।
শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত শহরের প্রায় সব খাবার হোটেলে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
শিল্পকারখানা উৎপাদন বন্ধ
মিল, ডাইংসহ অধিকাংশ শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প এলাকাজুড়ে মেশিন বন্ধ পড়ে থাকায় ক্ষতির শঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। আগের ঘটনাগুলোর মতো এবারও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
স্থানীয়রা জানান, পাইপলাইন ফাটার পর চারদিকে গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। শব্দ শুনেই সবাই এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দ্রুত সরবরাহ বন্ধ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
বারবার একই ঘটনা
পঞ্চবটী–মুক্তারপুর উড়ালসড়কের কাজ শুরুর পর থেকে ফতুল্লায় অন্তত ২৫ বার তিতাস গ্যাসের প্রধান লাইনে ফাটল ধরেছে। প্রতিবারই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের সঠিক ম্যাপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে দুর্ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।
তিতাস ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান বলেন,
‘পাইলিংয়ের সময় প্রধান পাইপলাইন ফেটে গেছে। পাইপটি ২০–২৫ ফুট গভীরে থাকায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে বারবার ধসে পড়ছে। মাটি যাতে ভেঙে না পড়ে, সে জন্য চারদিকে লোহার পাত দিয়ে সুরক্ষা তৈরি করা হচ্ছে। মাটি সরানো ও পাইপলাইন মেরামতে আরও পাঁচ–ছয় ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।’
উড়ালসড়ক প্রকল্পের পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
নগরবাসীর দাবি—দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
একই এলাকায় বারবার গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, সমন্বয়ের অভাব ও অবহেলার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।
নগরবাসী বলছেন, শুধু মেরামত নয়, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে এ ধরনের দুর্ভোগ কমানোর একমাত্র উপায়।









Discussion about this post