নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহরের এক নং রেলগেইট এলাকায় সবুজ (৩৭) নামের যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি সিআইডি মাসুমসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে গ্রেফতারের পর থানায় অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
এজাহারভুক্ত আসামিদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক থানায় প্রবেশ করে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। হুমকি-ধামকিসহ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় ওই ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় ১ নং রেলগেইট এলাকার সরকারি জায়গায় স্থাপিত টিনসেড ঘরে সবুজ, রাজু ও সাঈদী আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় সিআইডি মাসুমের নেতৃত্বে কয়েকজন সশস্ত্র হামলাকারী ঘরে ঢুকে সবুজের ওপর এলোপাতাড়ি চাপাতি দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সবুজকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর ২১ নভেম্বর সে মারা যায়।
নিহত সবুজের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার ও থানায় বিশৃঙ্খলা
শনিবার বিকেলে সবুজ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডি মাসুম (৪১) এবং রাজু (৩৫)–কে আটক করে থানায় আনা হয়।
এমন খবর পেয়ে আসামিপক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন থানায় ঢুকে পড়ে। তারা পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ, গালিগালাজ এবং হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়। এমনকি আটক আসামিকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কড়া অবস্থান নেয় এবং রোববার দুপুরে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান হোসেন বাদী হয়ে ৫৭ জনকে আসামি করে থানায় হামলা, হুমকি ও বাধাদান আইনে মামলা করেন। এদের মধ্যে রনি ওরফে এডভান্স রনি, আলআমিন, শাহিন, মশিউর রহমান মশু, টাক্কু রাজু, এজাজ উদ্দিন আহম্মেদ ও সাব্বির আহম্মেদের নাম রয়েছে। অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পুলিশের অবস্থান
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নাছির আহম্মেদ বলেন, “কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে, দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। এছাড়া থানায় হামলা ও পুলিশকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আলাদা মামলা করা হয়েছে। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে এক নং রেলগেইট এলাকা ও আশপাশে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।









Discussion about this post