বন্দরে প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্মাণশ্রমিক পারভেজ (৩০)–কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রশিদের ভাই মেসবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সোনাচড়া এলাকায় তার নিজ বাড়িতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত পারভেজ সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মাশীল এলাকার মৃত তারা মিয়ার ছেলে। তিনি বন্দরের ঢাকেশ্বরী এলাকায় বুলবুল মিশার বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
“চোর নয়, আমার স্বামী নির্মাণশ্রমিক”— স্বজনের কান্না
পারভেজের স্ত্রী খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী চোর না, সে নির্মাণ শ্রমিক। তাকে রাতে ধরে এনে বৈদ্যুতিক তার চুরির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
পরিকল্পিত বর্বরতা: পুলিশ বলছে
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী জানান, রোববার রাতেই মেসবাহ উদ্দিন তার দুই ছেলেকে নিয়ে চুরির অভিযোগে পারভেজকে আটক করে এবং দীর্ঘসময় ধরে মারধর চালায়।
পরদিন আজ সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় পারভেজের মৃত্যু হলে অভিযুক্ত মেসবাহ উদ্দিন ও তার পরিবার রাতের অন্ধকারে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি লিয়াকত আলী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ক্ষমতার দাপট, আইনের অবমাননা
একজন নিরীহ শ্রমিককে চোর সন্দেহে আটক করে গৃহবন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা—এ যেন আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।
ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনা শুধু নিন্দনীয় নয়, বরং এটি এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।
পরিবারে কান্নার রোল, এলাকায় ক্ষোভ
পারভেজের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে সীমাহীন শোক ও বেদনা। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে—“চুরির অভিযোগ থাকলে পুলিশে দিত, পিটিয়ে মারার অধিকার কে দিয়েছে?”—এমন প্রশ্নে উত্তাল এলাকাবাসী।
দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
একজন শ্রমিকের নিষ্ঠুর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়রা জড়িত রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাদের বক্তব্য— আইনের চোখে সবাই সমান, হত্যাকারী যে-ই হোক তাকে আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে।









Discussion about this post