আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পাঁচরুখী এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিগ্রহণকৃত জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সজল (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হাজী আব্দুল মালেক প্রধান মর্ডান হাসপাতাল ও এমপি টাওয়ারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সজল পাবনার সাঁথিয়া থানার আশাইখোলা এলাকার বাতেন মিয়ার ছেলে।
ঘটনা কীভাবে ঘটলো
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকদিন ধরে মার্কেট মালিক জসিম উদ্দিন সওজ এর অধিগ্রহণকৃত প্রায় ১০ ফুট জায়গা ও পাশের ব্যক্তি আল-আমিনের কিছু জায়গা দখল করে দ্রুতগতিতে মার্কেট নির্মাণের কাজ চালাচ্ছিলেন। চার দিন আগে পিলার স্থাপনের জন্য মাটি খনন করতে গিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে পাশের হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং খুঁটির তার মাটিতে ছড়িয়ে থাকে।
রবিবার সন্ধ্যায় নির্মাণ কাজ চলাকালে মাটিতে পড়ে থাকা সেই বিদ্যুতের তারে পা জড়িয়ে তীব্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন শ্রমিক সজল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
হাসপাতাল ও মালিকপক্ষের বক্তব্য
মর্ডান হাসপাতালের এমডি শান্ত জানান—
“সজলকে হাসপাতালে আনা হলে তিনি আগেই মারা গিয়েছিলেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আঘাত ছিল গুরুতর।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সজলের মৃত্যুর পর মার্কেট মালিক জসিম উদ্দিন ‘উন্নত চিকিৎসা’র কথা বলে তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানোর কথা জানান। পরে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই লাশ তার নিজ বাড়ি পাবনায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জসিম উদ্দীনের ছেলে মানিক বলেন—“আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম, কিন্তু সজলকে বাঁচাতে পারিনি।”
সওজের প্রতিক্রিয়া
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা আজিম বলেন—“আমাদের জমি কোনোভাবেই দখল করতে দেওয়া হবে না। জসিম উদ্দীনকে পূর্বেই নিষেধ করা হয়েছিল। সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা আইনত অপরাধ।”
পুলিশের অবস্থান
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসিরউদ্দিন জানান—“ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই সজলের লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয়দের ক্ষোভ
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণ এবং বিদ্যুৎখুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও প্রশাসনের নজরদারি ছিল না। দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার চাপই এ দুর্ঘটনার কারণ বলে তারা মনে করছেন।









Discussion about this post