নিজস্ব প্রতিবেদক :
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের পর তার বিপুল সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
জব্দকৃত সম্পদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু। সোনারগাঁও উপজেলার ৩১০ শতক জমিসহ মোট ৪৮৭ শতক জমি ক্রোক করা হয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জের এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির আনুমানিক মূল্যই কয়েক দশক কোটি টাকার সমপরিমাণ।
নারায়ণগঞ্জে নজরুল মজুমদারের সম্পদই সবচেয়ে বেশি
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা জমির বড় অংশ—৩১০ শতক—অবস্থিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। অভিযোগে বলা হয়, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপ্রদর্শিত আয়ের মাধ্যমে অর্জিত এ জমিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রেখেছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার।
তবে মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় তিনি শ্রমিকদের বেতন–ভাতা পরিশোধ অথবা প্রতিষ্ঠানিক পাওনা শোধের অজুহাতে এসব সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষতির আশঙ্কায় দুদক সম্পদ জব্দের আবেদন করে।
আদালতের আদেশ: বিক্রি বা হস্তান্তর নিষেধ
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।
আসামির বিরুদ্ধে ৭৮১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
দুদকের সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার মোট ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর আগেও তার তেজগাঁও, বাড্ডা ও জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পের মোট ১৬২ কাঠা সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়, যার মূল্য প্রায় ১৮০ কোটি টাকা।
এছাড়া তার তিনটি ব্যাংক হিসাবেও পাওয়া গেছে ২ কোটি টাকার বেশি জমা।
নারায়ণগঞ্জবাসীর চোখ এখন মামলার অগ্রগতিতে
সোনারগাঁওয়ের ৩১০ শতক সম্পদ জব্দের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পদ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো এত বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম স্থানীয় মহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।









Discussion about this post