মহানগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ঘিরে দলীয় অঙ্গনে তীব্র বিরোধ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তার সেই বক্তব্যের অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আরও অসন্তোষ দেখা দেয়।
মিছিলকারীদের অভিযোগ ও দাবি
মিছিলকারীরা অভিযোগ করেন—মান্নানের মন্তব্য দলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মানহানি ও অপমানিত বোধ করছেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে এমন ‘বিতর্কিত ও অসংযত ভাষার’ প্রার্থী দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দাবি জানান,
“দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় মান্নানের প্রার্থিতা বাতিল করে সুশিক্ষিত, গ্রহণযোগ্য ও সংগঠনের প্রতি অনুগত কাউকে নতুনভাবে মনোনয়ন দেওয়া হোক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
ঘটনাটিকে স্থানীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা দুই দিক থেকে বিশ্লেষণ করছেন—
১. তৃণমূলে হতাশা ও শক্তির পরীক্ষাঃ
মশাল মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে মান্নানবিরোধী প্রভাবশালী একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের দাবি সরাসরি রাজপথে ওঠায় বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে।
২. বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিফলন :
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও বিভেদ দীর্ঘদিনের; মান্নানের বক্তব্য সেই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন অস্থিরতা বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মান্নানের অবস্থান
ঘটনাটির পর আজহারুল ইসলাম মান্নান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে—বক্তব্যটি ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হয়েছে এবং তিনি এমন কিছু বলতে চাননি যা নেতাকর্মীদের মানহানি করে।
পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব
প্রার্থিতা বাতিলের দাবি মেনে নেওয়া হলে এলাকায় নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে।
দাবি অগ্রাহ্য করা হলে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও বাড়তে পারে, যা নির্বাচনী মাঠে বিএনপির শক্তিকে দুর্বল করবে।
উপসংহার
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মান্নানকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক বিএনপির তৃণমূলে অস্বস্তি ও ক্ষোভের একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। দল যদি সংকটটি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সমাধান করতে না পারে, তবে নির্বাচনী মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত এখন সময়ের দাবি।









Discussion about this post